আমি যা হয়েছি: সরকারি চাকুরে। বেতন ৪৫,০০০ টাকা। দুই কামরার ভাড়া বাড়িতে থাকি। ২০ বছরের পুরনো গাড়ি। সাঁইত্রিশ বছর বয়স।
আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ১: লেখক। বই লিখতাম। হয়তো বিখ্যাত হতাম। হয়তো হতাম না। কিন্তু প্রতিদিন সকালে লিখতে বসে মনে হতো আমি আমার কাজ করছি।
বাস্তবতা: আমি লিখি না। ডায়েরি ছাড়া।
আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ২: ব্যবসায়ী। নিজের দোকান। হয়তো ছোট শুরু, কিন্তু নিজের মালিক। প্রতিদিন ঝুঁকি, প্রতিদিন সম্ভাবনা।
বাস্তবতা: আমি ঝুঁকি নিতে ভয় পাই।
আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ৩: বিদেশে চলে যেতাম। অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা। নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ। আরাশ বড় হতো ভিন্ন সংস্কৃতিতে।
বাস্তবতা: আমি পরিবার ছেড়ে যেতে পারিনি।
আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ৪: শিক্ষক। স্কুলে, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাজারো ছাত্রের জীবনে প্রভাব ফেলতাম। মনে থাকতাম তাদের।
বাস্তবতা: আমি চাকরির নিরাপত্তা বেছে নিয়েছি।
প্রশ্ন: এই চারটি সংস্করণের মধ্যে কোনটা সঠিক ছিল?
উত্তর: জানি না।
রাতে ভাবি:
Parallel universe-এ হয়তো সেই সব সংস্করণ বিরাজ করছে।
একটা universe-এ আমি famous লেখক। আরেকটিতে successful ব্যবসায়ী। তৃতীয়টিতে Canada-র resident। চতুর্থটিতে beloved শিক্ষক।
কিন্তু এই universe-এ আমি কে?
হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করি:
“তুমি কি মনে করো আমাদের জীবন ভিন্ন হতে পারতো?”
“কীভাবে?”
“যদি আমি অন্য career বেছে নিতাম?”
“তাহলে হয়তো আমরা অন্য problems নিয়ে চিন্তা করতাম।”
বুদ্ধিমানের কথা।
আরাশকে দেখি:
তার সামনে এখনো সব রাস্তা খোলা। সে যে কোনো সংস্করণ বেছে নিতে পারে।
আমি কি তাকে safe path দেখাব নাকি risky path?
আমার নিজের choice-এর জন্য আমি এখনো confused।
অন্য মানুষদের দেখি:
রাস্তায়, অফিসে, বাসে – সবাই তাদের chosen life নিয়ে চলেছে।
কেউ কি সন্তুষ্ট? কেউ কি আফসোস করে? নাকি সবাই আমার মতোই ভাবে – “যদি অন্য পথে যেতাম?”
মধ্যবয়সের সত্য:
আমি life-এর halfway point-এ।
পেছনে তাকালে দেখি – অনেক road আমি নিইনি। সামনে তাকালে দেখি – অনেক road এখনো বন্ধ হয়ে গেছে।
এই trapped feeling-টাই হয়তো midlife crisis।
কিন্তু আরেকটা চিন্তা:
হয়তো সব parallel life-ই সমান ভালো। হয়তো সব parallel life-ই সমান কঠিন।
লেখক হলে financial tension হতো। ব্যবসায়ী হলে failure-এর ভয় থাকতো। বিদেশে গেলে homesickness হতো। শিক্ষক হলে salary কম হতো।
হয়তো সমস্যা choice-এ নয়।
সমস্যা হলো – আমি যা choose করিনি, সেটা নিয়ে বেশি ভাবি। যা choose করেছি, সেটার value করি না।
এটাই হয়তো human nature।
নিজেকে বলি:
তুমি একটা decent life গড়েছো। একটা loving family আছে। একটা stable job আছে। Health ভালো।
এগুলো কি কম কিছু?
মন বলে: না, কম না। মন আবার বলে: কিন্তু যথেষ্ট কি?
উপসংহার নেই।
Parallel lives নিয়ে ভাবলে শান্তি মেলে না।
কিন্তু ভাবতেই হয়।
কারণ এটাই মধ্যবয়স।
সব possibilities-এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভাবা –
“আমি কি ঠিক পথে আছি?”
একটু ভাবনা রেখে যান