ব্লগ

সমান্তরাল জীবনের হিসাব

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আমি যা হয়েছি: সরকারি চাকুরে। বেতন ৪৫,০০০ টাকা। দুই কামরার ভাড়া বাড়িতে থাকি। ২০ বছরের পুরনো গাড়ি। সাঁইত্রিশ বছর বয়স।

আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ১: লেখক। বই লিখতাম। হয়তো বিখ্যাত হতাম। হয়তো হতাম না। কিন্তু প্রতিদিন সকালে লিখতে বসে মনে হতো আমি আমার কাজ করছি।

বাস্তবতা: আমি লিখি না। ডায়েরি ছাড়া।


আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ২: ব্যবসায়ী। নিজের দোকান। হয়তো ছোট শুরু, কিন্তু নিজের মালিক। প্রতিদিন ঝুঁকি, প্রতিদিন সম্ভাবনা।

বাস্তবতা: আমি ঝুঁকি নিতে ভয় পাই।


আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ৩: বিদেশে চলে যেতাম। অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা। নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ। আরাশ বড় হতো ভিন্ন সংস্কৃতিতে।

বাস্তবতা: আমি পরিবার ছেড়ে যেতে পারিনি।


আমি যা হতে পারতাম – সংস্করণ ৪: শিক্ষক। স্কুলে, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাজারো ছাত্রের জীবনে প্রভাব ফেলতাম। মনে থাকতাম তাদের।

বাস্তবতা: আমি চাকরির নিরাপত্তা বেছে নিয়েছি।


প্রশ্ন: এই চারটি সংস্করণের মধ্যে কোনটা সঠিক ছিল?

উত্তর: জানি না।


রাতে ভাবি:

Parallel universe-এ হয়তো সেই সব সংস্করণ বিরাজ করছে।

একটা universe-এ আমি famous লেখক। আরেকটিতে successful ব্যবসায়ী। তৃতীয়টিতে Canada-র resident। চতুর্থটিতে beloved শিক্ষক।

কিন্তু এই universe-এ আমি কে?


হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করি:

“তুমি কি মনে করো আমাদের জীবন ভিন্ন হতে পারতো?”

“কীভাবে?”

“যদি আমি অন্য career বেছে নিতাম?”

“তাহলে হয়তো আমরা অন্য problems নিয়ে চিন্তা করতাম।”

বুদ্ধিমানের কথা।


আরাশকে দেখি:

তার সামনে এখনো সব রাস্তা খোলা। সে যে কোনো সংস্করণ বেছে নিতে পারে।

আমি কি তাকে safe path দেখাব নাকি risky path?

আমার নিজের choice-এর জন্য আমি এখনো confused।


অন্য মানুষদের দেখি:

রাস্তায়, অফিসে, বাসে – সবাই তাদের chosen life নিয়ে চলেছে।

কেউ কি সন্তুষ্ট? কেউ কি আফসোস করে? নাকি সবাই আমার মতোই ভাবে – “যদি অন্য পথে যেতাম?”


মধ্যবয়সের সত্য:

আমি life-এর halfway point-এ।

পেছনে তাকালে দেখি – অনেক road আমি নিইনি। সামনে তাকালে দেখি – অনেক road এখনো বন্ধ হয়ে গেছে।

এই trapped feeling-টাই হয়তো midlife crisis।


কিন্তু আরেকটা চিন্তা:

হয়তো সব parallel life-ই সমান ভালো। হয়তো সব parallel life-ই সমান কঠিন।

লেখক হলে financial tension হতো। ব্যবসায়ী হলে failure-এর ভয় থাকতো। বিদেশে গেলে homesickness হতো। শিক্ষক হলে salary কম হতো।


হয়তো সমস্যা choice-এ নয়।

সমস্যা হলো – আমি যা choose করিনি, সেটা নিয়ে বেশি ভাবি। যা choose করেছি, সেটার value করি না।

এটাই হয়তো human nature।


নিজেকে বলি:

তুমি একটা decent life গড়েছো। একটা loving family আছে। একটা stable job আছে। Health ভালো।

এগুলো কি কম কিছু?

মন বলে: না, কম না। মন আবার বলে: কিন্তু যথেষ্ট কি?


উপসংহার নেই।

Parallel lives নিয়ে ভাবলে শান্তি মেলে না।

কিন্তু ভাবতেই হয়।

কারণ এটাই মধ্যবয়স।

সব possibilities-এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভাবা –

“আমি কি ঠিক পথে আছি?”

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *