ব্লগ

নয়টা থেকে ছয়টা – সোনালী সময়ের কবরখানা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

সকাল নয়টায় অফিসে ঢুকি। সন্ধ্যা ছয়টায় বের হই। নয় ঘণ্টা। দিনের সবচেয়ে ভালো সময়। যখন সূর্য উজ্জ্বল, যখন শরীর তাজা, যখন মন পরিষ্কার। সেই সময়টা দিয়ে দেই অন্যের কাজে।

আমার জীবনের সোনালী সময় অন্যের।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আরাশকে দেখি পাঁচ মিনিট। হ্যাপির সাথে কথা বলি দশ মিনিট। তারপর দৌড়ে বের হই। ফিরি রাতে। আরাশ তখন ক্লান্ত। হ্যাপিও।

আমার পরিবার পায় আমার খারাপ সময়। অফিস পায় আমার ভালো সময়।

দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় ভাবি, এই মুহূর্তে আরাশ কী করছে? স্কুল থেকে ফিরেছে। একা একা খাচ্ছে। আমি থাকলে তাকে খাওয়াতাম। গল্প বলতাম।

কিন্তু আমি এখানে বসে অফিসের খাবার খাচ্ছি।

বিকেলে যখন সবচেয়ে ভালো আলো, আমি একটা বন্ধ ঘরে বসে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকি। জানালা দিয়ে দেখি বাইরে রোদ খেলছে। কিন্তু আমি সেই রোদ ছুঁতে পারি না।

আমার বয়স ৩৯। আরো ২১ বছর এভাবে চলবে। মানে আরো ২১ বছর আমার সোনালী সময় অন্যের কাছে বিকিয়ে দেব।

হিসাব করলে দেখি, সপ্তাহে ৪৫ ঘণ্টা অফিসে। মাসে ১৮০ ঘণ্টা। বছরে ২১৬০ ঘণ্টা। জীবনে ৪৫ হাজার ঘণ্টা।

৪৫ হাজার ঘণ্টা। এই সময়ে কত বই পড়া যেত। কত গল্প লেখা যেত। আরাশের সাথে কত খেলা যেত।

কিন্তু এই সময় আমার না। এই সময় কিনে নিয়েছে অন্যরা।

ছুটির দিন যখন আসে, তখন মনে হয় আমি আমার নিজের জীবনে ফিরেছি। কিন্তু দু’দিন পরেই আবার সেই কবরখানায় ফিরে যেতে হয়।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমার এই সোনালী সময়ের দাম যেন হ্যাপি-আরাশের কাছে পৌঁছায়। যেন এই ত্যাগ বৃথা না হয়।

কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি আমার জীবন বিকিয়ে দিচ্ছি। আর পাচ্ছি শুধু টাকা।

টাকা দিয়ে কি সময় কেনা যায়?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *