ব্লগ

সোনালী সিলমোহর

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ সকালে দোকানে গিয়ে দেখি প্যাকেটের উপর সেই চেনা সবুজ লোগো। “হালাল সার্টিফাইড” লেখাটা সোনালী অক্ষরে চকচক করছে। দাম দেখে গলা শুকিয়ে গেল। একই পণ্য, কিন্তু এই ছোট্ট স্টিকারের জন্য দ্বিগুণ দাম।

দোকানদার হাসতে হাসতে বলল, “ভাই, এখন সবাই হালাল চায়। এই সার্টিফিকেটের জন্য কোম্পানিগুলো লাখ লাখ টাকা দেয়।”

আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে পড়ে গেল বাবার কথা। উনি বলতেন, “বেটা, হালাল-হারাম আল্লাহ ঠিক করেছেন, কোনো কাগজের টুকরো না।” আজ এই কাগজের টুকরোই হয়ে গেছে কোটি টাকার ব্যবসা।

বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম, “আমাদের দাদা-নানারা কি হালাল খেত না? তাদের তো কোনো সার্টিফিকেট ছিল না।” হ্যাপি মুচকি হেসে বলল, “তখন মানুষের মনেও সার্টিফিকেট ছিল।”

আরাশ বারান্দায় বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেও কী দেখছে। রাস্তায় একটা লোক ভিক্ষা করছে। তার হাতে একটা ছেঁড়া কাপড়ের ঝুলি। কোনো সার্টিফিকেট নেই যে সে আসলেই গরিব। কিন্তু আমার মন বলছে দিতে, নাকি এটাও কোনো ধোঁকা?

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি। এই মুখটা কি হালাল নাকি হারাম? আমার কামাইটা? আমার চিন্তাটা? কোন অথরিটি এর সার্টিফিকেট দেবে?

রাতে শুয়ে ভাবি, আল্লাহর কাছে কি আমাদের কোনো সার্টিফিকেট লাগবে? নাকি উনি সব জানেন? তাহলে এই পৃথিবীতে কেন এত দালাল? কেন ধর্মও হয়ে গেল পণ্য?

আরাশ ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করছে। হয়তো স্বপ্নে সে এমন এক পৃথিবী দেখছে যেখানে সততার কোনো দাম লাগে না। যেখানে হালাল মানে শুধু একটা স্টিকার না, বরং হৃদয়ের পবিত্রতা।

কিন্তু সেই পৃথিবী কি আদৌ আছে? নাকি আমি ভুল স্বপ্ন দেখি?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *