ব্লগ

সোনার পাগড়ি

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ইনস্টাগ্রামে একটা রিল দেখলাম। একজন হুজুর ডিজাইনার পাগড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছেন। গলায় সোনার চেইন, হাতে দামি আংটি। পেছনে মার্বেল দেওয়াল, ঝাড়বাতি।

বলছেন, “বিনয় ইমানের সৌন্দর্য। যে যত নিচু হবে, আল্লাহ তাকে তত উঁচু করবেন।”

আমি pause করে দিলাম।

ভাবলাম – এই দৃশ্যে কোথায় বিনয়? সোনার চেইনে? নাকি ডিজাইনার পাগড়িতে?

কিন্তু তারপরই মনে হলো – আমি কী করছি? একজনের পোশাক দেখে তার আত্মার বিচার করছি?

হয়তো উনি সত্যিই বিনয়ী। হয়তো বাইরের সাজ আর ভেতরের অবস্থা আলাদা জিনিস। কোরআনে তো বলা আছে, “মানুষ বাইরে দেখে, আল্লাহ হৃদয় দেখেন।”

তাহলে আমার সমস্যা কী? পোশাক নিয়ে?

নাকি সমস্যা messaging এ? যে বিনয়ের কথা বলেন, তার appearance কি সেই message এর সাথে conflict করে?

হযরত উমর (রা) কি তালি দেওয়া কাপড় পরতেন না? হযরত উসমান (রা) কি ব্যবসায়ী ছিলেন না? তাহলে ধনী হওয়া আর বিনয়ী হওয়া কি পরস্পরবিরোধী?

কিন্তু তাঁরা তো কখনো বলেননি, “দেখো আমি কত বিনয়ী।” আর এই হুজুর যখন সোনার আংটি পরে বিনয়ের বয়ান দেন, তখন কেমন লাগে?

নাকি আমি ভুল দেখছি? হয়তো উনার পোশাক তাঁর economic status এর reflection। উনি hide করার চেষ্টা করছেন না। সৎভাবে তাঁর position থেকে কথা বলছেন।

কিন্তু তাহলে প্রশ্ন – বিনয়ের কথা বলার সময় কি আমাদের নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত নয়?

একজন ধনী মানুষ যখন দরিদ্রদের বিনয়ের উপদেশ দেন, তখন কি সেটা ironic লাগে না?

নাকি এটাই পৃথিবীর নিয়ম? যাদের কাছে আছে, তারাই বলে যাদের নেই তাদের কী করতে হবে?

আমি নিজের দিকে তাকালাম। আমার কি অধিকার আছে তাঁকে judge করার? আমি যখন চাকরির ইন্টারভিউতে যাই, তখন কি সবচেয়ে ভালো জামা পরি না? সেটা কি বিনয়ের পরিপন্থী?

নাকি পার্থক্য audience এর মধ্যে? আমি ইন্টারভিউতে impress করার চেষ্টা করি। উনি মানুষকে spiritually guide করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু guide করার জন্য কি আগে নিজেকে embodiment করতে হয় না যা আপনি teach করেন?

নাকি আমি বেশি expect করছি? সবাই তো অসম্পূর্ণ। তাঁরও হয়তো struggle আছে। তাঁর পোশাক হয়তো তাঁর weakness, কিন্তু তাঁর knowledge authentic।

তাহলে কি আমার focus ভুল? আমি তাঁর dress নিয়ে ভাবছি, তাঁর message নিয়ে নয়।

কিন্তু message আর messenger কি আলাদা? যে বিনয়ের কথা বলে, তার lifestyle কি সেই message এর credibility কে affect করে না?

হয়তো এটাই আসল সমস্যা। আমি চাই consistency। কিন্তু মানুষ inconsistent.

আমি নিজেও তো inconsistent. যে আমি অহংকার দোষের কথা বলি, সেই আমি নিজের education নিয়ে গর্ব করি। যে আমি সাদাসিধে জীবনের কথা বলি, সেই আমি ব্র্যান্ডেড জিনিস কিনতে চাই।

তাহলে আমার expectation টাই কি ভুল? মানুষের কাছ থেকে perfect consistency আশা করা কি realistic?

নাকি যারা public platform এ teach করেন, তাদের responsibility বেশি? তাদের কি বেশি careful হওয়া উচিত নয়?

কিন্তু তাহলে কে teach করবে? শুধু যারা perfect তারা? কিন্তু perfect তো কেউ নয়।

আমি আবার সেই রিল দেখলাম। এবার আমি শুধু কথাগুলো শুনলাম, দৃশ্য দেখলাম না।

কথাগুলো ভালো। সত্যি। গভীর।

তাহলে কি আমার problem visual এর সাথে? আমি কি superficial judgement করছি?

নাকি আমার intuition ঠিক? কিছু একটা মিলছে না।

আমি জানি না। আমি শুধু জানি, আমার মন বলছে – যদি তুমি বিনয়ের কথা বলো, তাহলে কমপক্ষে visually সেটার reflection দেখানোর চেষ্টা করো।

কিন্তু হয়তো এটা আমার limitation. হয়তো আমি external আর internal কে separate করতে পারি না।

হয়তো আমার শেখা উচিত message এ focus করতে, messenger এ নয়।

কিন্তু যদি messenger আর message contradict করে, তাহলে কোনটা বিশ্বাস করবো?

সহজ উত্তর নেই।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *