গতকাল রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনলাম। “আগামীকাল মিলাদ মাহফিল। বিশেষ আয়োজন। সবাইকে আসার অনুরোধ।” আওয়াজটা আমার কানে বাজতে থাকল। কী আছে বিশেষ?
সকালে মসজিদের দিকে যেতে দেখি রং-বেরঙের বাতি, ফুলের সাজসজ্জা। গেটে লেখা “স্বাগতম – মহান মিলাদুন্নবী উৎসব।” আরাশ আমার হাত ধরে বলল, “আব্বু, কত সুন্দর সাজানো!”
ভিতরে ঢুকে চোখ কপালে উঠল। কার্পেটের উপর কার্পেট। এয়ার কুলার এর সাথে সাথে পাখা। টেবিলে টেবিলে খাবার। বিরিয়ানি, কোর্মা, পোলাও। মিষ্টির পাহাড়। এক কোণায় দেখলাম একটা বোর্ড – “আজকের অনুষ্ঠানের খরচ ৮ লাখ টাকা। দাতাদের ধন্যবাদ।”
মনে হলো বুকে কেউ ঘুষি মেরেছে। ৮ লাখ? একটা দিনের জন্য?
নামাযের পর খাওয়া-দাওয়া। চারদিকে মানুষের হাসি-আনন্দ। আমি চুপচাপ বসে আছি। হঠাৎ দেখি মসজিদের সামনের রাস্তায় একটা বুড়ি ভিক্ষা করছে। তার পাশ দিয়ে মানুষ পেট ভরে খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কেউ তাকে দেখছে না।
আমি উঠে গেলাম তার কাছে। কিছু টাকা দিতে গিয়ে দেখি তার চোখে পানি। “মা, কী হয়েছে?” জিজ্ঞেস করলাম। বলল, “বাবা, তিন দিন খাই নাই। ভাবলাম আজ মসজিদে অনুষ্ঠান, হয়তো কেউ কিছু দিবে। কিন্তু…”
আমার গলা শুকিয়ে গেল। ফিরে এসে হ্যাপিকে বললাম সব। হ্যাপি মাথা নাড়ল, “এই যুগে দাওয়াত মানে দেখানোর দাওয়াত।”
রাতে আরাশ জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, রসুল (সা) এর জন্মদিনে এত খরচ করা কি ঠিক? উনি তো সাদাসিধে জীবন পছন্দ করতেন।”
আমার উত্তর নেই। বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকাই। সেই বুড়ি এখনো বসে আছে। মসজিদের বাতিগুলো নিভে গেছে। অন্ধকারে তার ছায়াটা আরো বড় লাগছে।
মনে প্রশ্ন জাগে – আমরা কার জন্য উৎসব করি? আল্লাহর জন্য, নাকি মানুষকে দেখানোর জন্য? ৮ লাখ টাকা দিয়ে কতজন গরিবের পেট ভরানো যেত? কতজন অসহায়ের চিকিৎসা করা যেত?
ঘুমের আগে দোয়া করার সময় ভাবি – হে আল্লাহ, আমাদের এই উৎসব কি তুমি পছন্দ করো? নাকি ওই বুড়ির কান্নার আওয়াজ তোমার কাছে পৌঁছায়?
একটু ভাবনা রেখে যান