“আগামীকাল ভোরে উঠব।” এই সংকল্প নিয়ে রাত ৯টায় বিছানায় যাই। মনে করি যথেষ্ট ঘুম হলে ভোর ৫টায় ওঠা সম্ভব। কিন্তু এই সংকল্পের সাথে সাথেই শুরু হয় এক অদ্ভুত যন্ত্রণা।
বিছানায় শুয়ে হিসেব করি। রাত ৯টায় ঘুমিয়ে পড়লে ভোর ৫টায় ৮ ঘণ্টা ঘুম হবে। এটা যথেষ্ট। কিন্তু ৯টায় কি ঘুম আসে? না। চোখে তখন কোনো ঘুম নেই।
১০টা, ১১টা, ১২টা – সময় পার হতে থাকে। আমি জেগে জেগে হতাশ হতে থাকি। “এভাবে তো ভোরে উঠতে পারব না।” কিন্তু ঘুম আসে না। যেন শরীর জানে আমি তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চাই বলেই বিদ্রোহ করছে।
হ্যাপি ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে এসব নিয়ে ভাবে না। তার ঘুমের সময় নির্দিষ্ট। কিন্তু আমার? আমি পরিকল্পনা করলেই সব উল্টাপাল্টা হয়ে যায়।
রাত ১টায় যখন অবশেষে ঘুম আসে, তখন মনে হয় “এবার তো ভোরে উঠতে পারব না। মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুম।” এই চিন্তা নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ি।
ভোর ৫টায় অ্যালার্ম বাজে। কিন্তু অবস্থা শোচনীয়। মাথা ভারী, চোখ জ্বালাপোড়া করছে। উঠলে সারাদিন অসুস্থ লাগবে। তাই অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ি।
সকাল ৮টায় উঠে অপরাধবোধে ভুগি। “আবার পারলাম না।” এই ব্যর্থতার অনুভূতি দিয়ে দিন শুরু করি।
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “কেন আমি সংকল্প করলেই সেটা ভেঙে যায়? কেন আমার ইচ্ছাশক্তি এত দুর্বল?” মনে হয় উত্তর আসছে – “তুমি জোর করতে চাও।”
হয়তো সত্যি। আমি প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেতে চাই। আমার শরীরের রিদমের বিরুদ্ধে। যেখানে শরীর চায় রাত ১২টায় ঘুমাতে, আমি চাই ৯টায়।
একবার সফল হয়েছিলাম। একদিন ভোর ৫টায় উঠতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেদিন সারাদিন মাথা ব্যথা। দুপুরে গভীর ঘুমে পড়ে গিয়েছিলাম। রাতে আবার ঘুম আসেনি।
এই চক্র থেকে মুক্তির উপায় কী? নাকি এটাই আমার নিয়তি যে আমি সংকল্প করব আর ব্যর্থ হব?
কখনো কখনো মনে হয় সংকল্প না করাই ভালো। যেমন আছে তেমনি থাকা। কিন্তু তাহলে তো কোনো উন্নতি হবে না। সব সময় একই জায়গায় পড়ে থাকব।
আজ আবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল ভোরে উঠব। জানি এই সিদ্ধান্ত আবার ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু আশা ছাড়তে পারি না। হয়তো একদিন পারব।
একটু ভাবনা রেখে যান