“বাবা, কেন দুনিয়ায় গরিব-ধনী আছে?”
আরাশের প্রশ্নে আমি থমকে যাই।
এগারো বছরের বাচ্চাকে কীভাবে বোঝাব যে দুনিয়াটা ন্যায্য নয়? কীভাবে বলব যে কেউ জন্মেই সব পায়, কেউ কিছুই পায় না?
“আরাশ, মানুষ আলাদা আলাদা পরিবারে জন্মায়। কারো পরিবারে বেশি টাকা, কারো কম।”
“কিন্তু কেন?”
আমি জানি আরাশ আসল উত্তর চায়। কিন্তু আসল উত্তর তার বয়সের জন্য খুব কঠিন।
“ঈশ্বরের ইচ্ছা।”
“ঈশ্বর কেন এমন করেন?”
আমার মাথা ঘুরে যায়। আরাশ ঈশ্বরের ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন করছে।
“আরাশ, হয়তো ঈশ্বর চান আমরা একে অপরকে সাহায্য করি।”
“তাহলে ধনী মানুষরা গরিবদের সাহায্য করে না কেন?”
আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি।
কীভাবে বলব যে মানুষ স্বার্থপর? কীভাবে বলব যে টাকা মানুষকে কঠিন করে দেয়?
“আরাশ, সবাই ভালো নয়। কিছু মানুষ নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে।”
“তুমি কেন গরিব?”
এই প্রশ্নটা আমার বুকে তীরের মতো বিঁধল।
আমি কেন গরিব? কারণ আমি ভুল পেশা বেছেছি? কারণ আমি অলস? কারণ আমার কোনো প্রতিভা নেই?
“আরাশ, আমি চেষ্টা করি। কিন্তু জীবনটা কঠিন।”
“কিন্তু রিহানের বাবা কঠিন নয় কেন?”
আমি বুঝতে পারি, আরাশ তুলনা করছে। সে দেখছে অন্য বাবারা সফল, তার বাবা নয়।
“আরাশ, সবার ভাগ্য এক রকম নয়।”
“ভাগ্য মানে কী?”
আমি গভীর নিঃশ্বাস নিই।
“ভাগ্য মানে… যা আমাদের সাথে ঘটে, তার অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
“তাহলে চেষ্টা করে কী হবে?”
আরাশের এই প্রশ্নে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই।
সে ছোট বয়সেই জীবনের মূল দ্বন্দ্বটা বুঝে ফেলেছে। চেষ্টা বনাম ভাগ্য।
“আরাশ, চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু ফলাফল সবসময় আমাদের হাতে নয়।”
“তাহলে তুমি হতাশ হও না কেন?”
আমার চোখে পানি এসে যায়।
আরাশ আমার চেয়ে ভালো দার্শনিক।
“আরাশ, বড়রা মাঝে মাঝে হতাশ হয়। কিন্তু তারপর আবার চেষ্টা করে।”
“আমিও কি বড় হয়ে হতাশ হব?”
আমি আরাশকে জড়িয়ে ধরি।
“না। তুই আমার চেয়ে স্মার্ট। তুই ভালো করবি।”
কিন্তু আমি জানি, জীবন আরাশকেও এই কঠিন প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি করবে।
আমি শুধু চাই, সে যেন তখন হেরে না যায়।
একটু ভাবনা রেখে যান