গতকাল ইসলামিক ব্যাংকের অফিসে গিয়েছিলাম। দেয়ালে বড় করে লেখা “সুদমুক্ত ব্যাংকিং”। সবুজ রঙের পোস্টারে কুরআনের আয়াত। আমার মনে একটু স্বস্তি এলো।
কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, ব্যবসার জন্য লোন নিতে চাই।” যুবকটা হেসে বলল, “স্যার, আমরা লোন দিই না। আমরা ‘মুরাবাহা’ করি।”
“মুরাবাহা মানে?” জিজ্ঞেস করলাম।
“খুবই সহজ। আপনি যে জিনিস কিনতে চান, আমরা সেটা কিনে আপনার কাছে বেশি দামে বিক্রি করব। কিস্তিতে টাকা দিবেন।”
আমি হিসেব করলাম। ১ লাখ টাকার পণ্য, তারা ১ লাখ ২০ হাজারে বিক্রি করবে। ১২ মাসে ফেরত দিতে হবে। এটা সুদ না?
“না না,” যুবকটা বলল, “এটা সুদ না। এটা ‘লাভ’।”
বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম। হ্যাপি বলল, “নামটা বদলালেই কি আসল বদলায়?”
আরাশ তার গণিতের বইয়ে হিসেব করে দেখাল – “আব্বু, এখানে শতকরা ২০% বেশি পেমেন্ট। আমাদের ক্লাসে একেই ‘সুদ’ বলে।”
রাতে ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে দেখি, প্রচলিত ব্যাংকের সুদের হারও এরকমই। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?
একটা ইসলামিক স্কলারের ভিডিও দেখলাম। উনি বলছেন, “নিয়ত আর পদ্ধতির পার্থক্য আছে।” কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন – আমি যে টাকা দিচ্ছি, সেটাই তো আসল। গরিবের কাছে কি এর কোনো পার্থক্য আছে?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। আল্লাহ কি সুদ হারাম করেছিলেন ‘নাম’ এর কারণে, নাকি ‘কাজ’ এর কারণে? যদি একই কাজ, অন্য নামে হয়, তাহলে কি সেটা হালাল হয়ে যায়?
মনে পড়ে বাবার কথা। উনি বলতেন, “যা হারাম, তা সোনার পাত্রে রাখলেও হারামই থাকে।”
আজকাল মনে হয় আমরা শুধু শব্দের খেলা খেলি। সুদ না, ‘মুনাফা’। লোন না, ‘মুরাবাহা’। জুয়া না, ‘ইনভেস্টমেন্ট’।
কিন্তু আল্লাহর কাছে কি এই শব্দের পার্থক্য আছে? নাকি উনি দেখেন আমাদের কাজের আসল রূপ?
আমি কি ভুল বুঝছি? নাকি আমরা নিজেদের ধোঁকা দিচ্ছি?
একটু ভাবনা রেখে যান