ব্লগ

শূন্য দিনের ক্যালেন্ডার

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

অবসরের শেষ দিন – সকাল ৯টা

অফিসের চেয়ারে শেষবার বসেছি। ১৮ বছর এই চেয়ারে বসেছি। আজ থেকে এই চেয়ার অন্যের।

টেবিল থেকে ছবি তুলছি। হ্যাপি-আরাশের ছবি। নিজের পেন। ডায়েরি।

প্রশ্ন: কাল সকাল ৯টায় আমি কোথায় বসব?


দুপুর ১২টা – বিদায় অনুষ্ঠান

কলিগরা কেক কেটেছে। সবাই বলছে, “এখন তো মজা করবেন।”

মজা?

৩৫ বছর কাজ করার পর হঠাৎ কোনো কাজ না থাকা – এটা মজা নাকি শূন্যতা?


সন্ধ্যা ৬টা – বাড়িতে

হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “কেমন লাগছে?”

“অদ্ভুত।”

“ভালো অদ্ভুত নাকি খারাপ অদ্ভুত?”

“জানি না।”


অবসরের প্রথম দিন – সকাল ৬টা

অভ্যাসে উঠে গেছি। কিন্তু কোথায় যাব?

অফিস নেই। মিটিং নেই। ডেডলাইন নেই।

এত freedom হ্যান্ডেল করব কীভাবে?


সকাল ৮টা

পার্কে হাঁটতে গেছি। দেখি আরও কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ।

একজন বললেন, “নতুন? আমিও ছয় মাস আগে retire করেছি।”

“কেমন লাগছে?”

“প্রথম দিকে বিরক্ত লাগত। এখন ভালো।”

আশার আলো।


দুপুর ২টা

বাড়িতে বসে আছি। TV দেখছি। কিন্তু মন বসছে না।

এতদিন এই সময় অফিসে থাকতাম। এখন কী করব?


প্রথম সপ্তাহ

একটা রুটিন বানাতে চেষ্টা করছি:

সকাল – হাঁটাহাঁটি দুপুর – বই পড়া
বিকাল – বাজার করা সন্ধ্যা – আরাশের সাথে সময়

কিন্তু এত leisure time আমার অভ্যাস নেই।


দ্বিতীয় সপ্তাহ – একটা আবিষ্কার

আরাশের বন্ধুর বাবা বললেন, “আমি painting শিখছি।”

“এই বয়সে?”

“কেন? শেখার কি কোনো বয়স আছে?”

আমি ভাবলাম। আমারও কি কিছু নতুন শেখা উচিত?


তৃতীয় সপ্তাহ – নতুন প্ল্যান

কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হয়েছি।

আরাশ বলল, “বাবা, তুমি কম্পিউটার শিখছো?”

“শেখা যাবে না?”

“Cool! আমি তোমাকে সাহায্য করব।”

বাবা-ছেলের role reverse হয়ে গেল।


প্রথম মাস – একটা উপলব্ধি

অবসর মানে বসে থাকা নয়।

অবসর মানে নিজের জন্য সময় পাওয়া।

এতদিন employer-এর জন্য কাজ করেছি। এখন নিজের জন্য।


দ্বিতীয় মাস – স্বেচ্ছাসেবী কাজ

এলাকার একটা স্কুলে বাচ্চাদের গণিত পড়াতে শুরু করেছি।

সপ্তাহে তিনদিন। দুই ঘন্টা করে।

বাচ্চারা “স্যার” বলে ডাকে। ভালো লাগে।


তৃতীয় মাস – হ্যাপির সাথে নতুন পরিকল্পনা

“চলো একটা ছোট ব্যবসা করি।”

“কী ব্যবসা?”

“তোমার রান্নার হাত ভালো। Catering service দিতে পারি।”

হ্যাপির চোখ চকচক করে উঠল।

আমাদের দ্বিতীয় জীবনের শুরু।


ছয় মাস পর – মূল্যায়ন

আমার নতুন routine:

আমি এখন বেশি ব্যস্ত চাকরির চেয়ে।


এক বছর পর – আরাশের মন্তব্য

“বাবা, তোমাকে এখন আগের চেয়ে বেশি energetic দেখাচ্ছে।”

“সত্যি?”

“হ্যাঁ। আগে তুমি tired থাকতে। এখন excited থাকো।”

সেটা ঠিকই বলেছে।


উপসংহার

অবসর মানে জীবনের শেষ নয়।

অবসর মানে নতুন অধ্যায়ের শুরু।

এই অধ্যায়ে আমি নিজের মালিক।

নিজের সময়ের মালিক।

নিজের স্বপ্নের মালিক।

৬০ বছর বয়সে আমার দ্বিতীয় জীবন শুরু হয়েছে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *