
আট বছর আগের ছবি।
মানুষ তাকিয়ে থাকে। চেনে না নিজেকে।
এই মানুষটা কে? একই নাম। একই পরিবার। কিন্তু সেই মানুষ নেই। মরে গেছে। ধীরে ধীরে। প্রতিদিন একটু একটু করে।
মৃত্যু মানে শুধু শ্বাস বন্ধ হওয়া না। মৃত্যু হয় প্রতি মুহূর্তে। তুমি যে আজ — কাল সে থাকবে না। নতুন তুমি জন্ম নেবে। পরশু সে-ও মরবে। এভাবে চলে।
নদীর নাম থাকে। কিন্তু পানি একই থাকে না। প্রতি সেকেন্ডে নতুন পানি। তুমিও তাই। তোমার নাম আছে। কিন্তু তুমি প্রতিদিন আলাদা।
তারপরও মানুষ ভাবে — “আমি আছি।“
মিথ্যা।
প্রতিটা কোষ বদলে গেছে। সেই চিন্তা নেই। সেই অনুভূতি নেই। সেই মানুষ নেই। তাহলে কে আছে? একটা ধারণা। ধারণা যে আমি একই। কিন্তু ধারণা মিথ্যা।
মানুষ ব্যক্তিত্ব বলে যেটাকে — সেটা মুখোশ। অফিসে এক মুখোশ। বাড়িতে আরেক। একা থাকলে আরেক। কোনোটা আসল না। সব ভূমিকা। সব অভিনয়।
এবং অভিনয় করতে করতে ভুলে যায় — এটা অভিনয়।
তারার আলো আসছে। তারা হয়তো মরে গেছে হাজার বছর আগে। কিন্তু আলো আসছে এখনো। বাবা নেই। কিন্তু বাবার আলো আছে — কথায়, চিন্তায়, ভেতরে। মা নেই। কিন্তু স্বপ্নে আসেন — রান্নাঘরে। ঘুম ভাঙলে বালিশ ভেজা।
অতীত মানে যা ছিল — না। অতীত হলো আলো। উৎস মরে গেলেও আলো আসে।
লাল কাগজের নৌকা নালায় পড়ে গেলে আরেকটা বানানো যায়। কিন্তু সেটা ওইটা না। প্রতিস্থাপন হয় না। শূন্যতা থাকে। সবসময়।
স্মৃতি সত্য মনে হয়। কিন্তু স্মৃতি মিথ্যা। মন বানায়। মন সাজায়। মন বদলায়। যা মনে করো ঘটেছিল — হয়তো ঘটেনি। হয়তো একেবারেই ঘটেনি।
অতীত নেই। ভবিষ্যত নেই। শুধু এখন। কিন্তু এই মুহূর্তও লেখার সাথে সাথে চলে যায়।
তাহলে কী আছে?
কিছু নেই।
সব প্রবাহ। সব চলছে। কিছু থাকছে না।
মৃত্যুতে অভিনয় শেষ হয়। মুখোশ খসে যায়। তখন কে থাকে? কেউ না। শুধু শূন্যতা। যে শূন্যতা ছিল জন্মের আগে। যে শূন্যতা থাকবে মৃত্যুর পরে।
কিন্তু এই মিথ্যাটা সুন্দর।
এই খেলাটা সুন্দর।
পাখি ডাকছে। আলো আসছে। জীবন চলছে। চলুক — যতদিন চলে।
তারপর শূন্য।
এবং শূন্যই শান্তি।

একটু ভাবনা রেখে যান