মাস তিনেক হলো স্বপ্নের ডায়েরি লিখছি। প্রতি সকালে ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই কলম হাতে নিই। যা মনে আছে, লিখে ফেলি।
প্রথম দিকে দুই-তিন লাইন লিখতে পারতাম। এখন পুরো পাতা ভরে যায়।
পড়তে পড়তে প্যাটার্ন চোখে পড়ে। কিছু প্রতীক বারবার আসে। পানি, সিঁড়ি, রাস্তা, পাখি। প্রতিবার আলাদা প্রসঙ্গে। কিন্তু মূল ভাব একই।
আমার অবচেতনের একটা ভোকাবুলারি আছে।
১৫ জানুয়ারি লিখেছি: “স্বপ্নে দেখলাম উড়ছি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নেই। বাতাসের সাথে ভেসে যাচ্ছি।” ২৮ জানুয়ারি: “আবার উড়ার স্বপ্ন। এবার নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়।”
উড়ার স্বপ্ন আমার কাছে মানে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।
খেয়াল করি চাপের সময় দুঃস্বপ্ন বেশি। খুশির সময় রঙিন স্বপ্ন। মন যেমন, স্বপ্ন তেমন।
স্বপ্ন মানসিক অবস্থার বারোমিটার।
একদিন স্বপ্নে দেখলাম মৃত বাবা আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছেন। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি না। লিখে রাখলাম। পরে বুঝলাম—আমি বাবার উপদেশের প্রয়োজন অনুভব করছি।
স্বপ্ন মনের গোপন চাহিদা প্রকাশ করে।
স্বপ্নে কখনো নিজেকে দেখি শিশু। কখনো বুড়ো। কখনো অন্য কেউ। পরিচয় বদলে যায়। কিন্তু মূল আমি থেকে যাই।
আমি কে—এই প্রশ্নের উত্তর স্বপ্নে খুঁজি।
একবার স্বপ্নে দেখলাম একটা বাগানে হাঁটছি। সবুজ ঘাস। রঙিন ফুল। শান্তি। সেই রাতে খুব ভালো ঘুম হয়েছিল। পরদিন মুডও ভালো ছিল।
ভালো স্বপ্ন পরের দিনটা সুন্দর করে।
কিছু স্বপ্নের অর্থ বুঝতে সময় লাগে। মাসখানেক পর পুরনো এন্ট্রি পড়ে বুঝি কী বোঝাতে চেয়েছিল।
স্বপ্নের ভাষা জটিল। ধৈর্য নিয়ে পড়তে হয়।
আমার স্বপ্নে পরিবার কম আসে। অফিস বেশি আসে। এটা কি বলছে আমি কাজ নিয়ে বেশি চিন্তিত?
স্বপ্ন জীবনের ভারসাম্য দেখায়।
কখনো কখনো স্বপ্নে সমাধান পাই। একটা স্বপ্নে দেখলাম জটিল গিঁট খুলছি। পরদিন একটা অফিসের সমস্যার সমাধান মাথায় এল।
স্বপ্ন কনসালট্যান্টের কাজ করে।
ডায়েরি লেখার আগে নিজেকে তেমন জানতাम না। এখন বুঝি আমার মনের গভীরে কী আছে। কী ভয়। কী আকাঙ্ক্ষা।
স্বপ্ন আত্মজানার পথ।
মাঝে মাঝে ভাবি—স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি নিজেই করতে হয়? নাকি সবার স্বপ্নের অর্থ একই?
আমার স্বপ্নের প্রতীক আমিই বুঝি ভালো।
ফ্রয়েডের বই পড়েছি। ইউংয়ের তত্ত্ব পড়েছি। কিন্তু তাদের ব্যাখ্যা সবসময় আমার স্বপ্নে খাটে না।
স্বপ্নের অভিধান ব্যক্তিগত।
সবচেয়ে অবাক করা যখন স্বপ্নের ডায়েরি পড়ে আবিষ্কার করি আমার সাথে নিজেরই পরিচয়। যে আমি জাগ্রত অবস্থায় চিনি না, স্বপ্নে তাকে দেখি।
স্বপ্নে সত্যিকারের আমি লুকিয়ে।
একটু ভাবনা রেখে যান