বিছানায় শুয়ে আছি, কিন্তু ঘুম আসছে না। কারণ রুমের তাপমাত্রা ঠিক নেই। ফ্যান চালু করলে ঠান্ডা লাগে। বন্ধ করলে গরম লাগে। এই দোদুল্যমানতায় আটকে গেছি। নিখুঁত তাপমাত্রার খোঁজে যেন একটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাচ্ছি।
ফ্যানের স্পিড ১-এ দিই। মনে হয় কম। ২-এ দিই, মনে হয় বেশি। ১.৫ নেই যে দেব। হ্যাপি পাশে ঘুমিয়ে আছে। তার কোনো সমস্যা নেই। একটা তাপমাত্রায়ই আরাম পায়। আমার এত জটিলতা কেন?
কম্বল টানি, গরম লাগে। সরিয়ে দিই, ঠান্ডা লাগে। আধখানা শরীর ঢাকি। কিন্তু তাতেও স্বস্তি নেই। যেন আমার শরীর একটা বিগড়ে যাওয়া থার্মোস্ট্যাট।
উইন্ডো খুলে দিই। বাইরের হাওয়া আসে। কিন্তু সেই সাথে আসে রাস্তার আওয়াজ। আবার বন্ধ করি। রুমে দমবন্ধ লাগে।
এসি চালানোর কথা ভাবি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাবে। এই মাসে যেমনিতেই টাকার অভাব। তাছাড়া এসি চালালে গলা শুকিয়ে যায়।
রাত ১২টা, ১টা, ২টা। আমি এখনো সেই নিখুঁত তাপমাত্রার খোঁজে। কখনো ফ্যান কম, কখনো বেশি। কখনো জানালা খোলা, কখনো বন্ধ।
আরাশের ঘরে গিয়ে দেখি সে কিভাবে ঘুমিয়ে আছে। তার রুমেও একই তাপমাত্রা। কিন্তু তার কোনো সমস্যা নেই। বাচ্চারা কি এসব নিয়ে ভাবে না?
বয়স বাড়ার সাথে সাথে কি আমরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যাই? ছোটবেলায় মেঝেতে শুয়েও ঘুম আসত। এখন পারফেক্ট ম্যাট্রেস, পারফেক্ট বালিশ, পারফেক্ট তাপমাত্রা – সব চাই।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “আমার এই জটিলতা দূর করো। অন্যরা যেমন সহজে ঘুমায়, আমিও যেন তেমনি ঘুমাতে পারি।” কিন্তু এই প্রার্থনার মাঝেও ফ্যানের আওয়াজ কানে লাগে।
হ্যাপি একবার জেগে উঠে বলল, “তুমি কী করছ? সারারাত এদিক সেদিক করছ।” আমি বললাম, “তাপমাত্রা ঠিক হচ্ছে না।” সে বলল, “আমার তো ভালো লাগছে।” আবার ঘুমিয়ে পড়ল।
অনলাইনে সার্চ করি – “ঘুমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা কত?” বিজ্ঞানীরা বলছেন ১৮-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আমার ঘরের তাপমাত্রা মাপার কোনো যন্ত্র নেই।
অবশেষে রাত ৩টায় একটা সমঝোতায় আসি। ফ্যান স্পিড ১, জানালা সামান্য খোলা, কম্বল আধখানা শরীরে। কিন্তু ততক্ষণে এত সময় নষ্ট হয়ে গেছে যে ঘুম প্রায় শেষ।
সকালে উঠে হ্যাপিকে বলি, “রাতে ঘুম হয়নি।” সে বলে, “কেন?” আমি বলি, “তাপমাত্রা ঠিক ছিল না।” তার মুখে একটা অবিশ্বাসের ভাব।
অফিসে সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করি, “তোমাদের ঘুমের সময় তাপমাত্রা নিয়ে সমস্যা হয়?” তারা অবাক হয়ে বলে, “না তো। ফ্যান চালিয়ে ঘুমাই।”
আমি কি খুব বেশি sensitive? নাকি আমার কোনো সমস্যা আছে? অন্যরা যেখানে কোনো চিন্তা না করে ঘুমায়, আমি সেখানে তাপমাত্রার হিসাব করি।
পরের রাতেও একই সমস্যা। আবার সেই অনুসন্ধান। কোন স্পিডে ফ্যান, কতটুকু জানালা খোলা, কতটুকু কম্বল। এই সংগ্রাম কি সারাজীবন চলবে?
একটু ভাবনা রেখে যান