এসি চলছে পুরো দমে। ১৮ ডিগ্রি। অন্যরা জ্যাকেট পরে বসে আছে। আমি ঘামছি।
কী অদ্ভুত ব্যাপার। বাইরে গরম, ভিতরে ঠান্ডা। কিন্তু আমার গরম লাগছে। গায়ের জামা ভিজে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার ভিতরে একটা চুল্লি জ্বলছে।
হাসান ভাই বলেন, “এসি একটু কমান, অনেক ঠান্ডা।” আমি বলি, “না না, ঠিক আছে।” কিন্তু ভিতরে জানি, আমার গরম লাগার কারণ এসি নয়।
আজ সকালে সেই কাজটার কথা ভেবেছি। যেটা করতে বলা হয়েছে। যেটা ঠিক না। কিন্তু করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই গরম শুরু।
মানুষের শরীর অদ্ভুত। বাইরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে। কিন্তু মনের তাপমাত্রা? মনের জ্বর? সেটা কোনো থার্মোমিটার দিয়ে মাপা যায় না।
আমি যখন মিথ্যা কথা বলতে হয়, তখন গলা শুকিয়ে যায়। যখন ভুল কাজ করতে হয়, তখন হাত কাঁপে। যখন চুপ থাকতে হয় সত্য জেনেও, তখন শরীর গরম হয়ে ওঠে।
এসি যত ঠান্ডা করুক, আমার বিবেকের আগুন নেভে না।
দুপুরে খাবার সময় নাসির ভাই বলেন, “তুমি কি অসুস্থ? মুখ লাল হয়ে আছে।” আমি বলি, “না, ভালো আছি।” আরেকটা মিথ্যা। আরো গরম।
রাতে বাড়ি ফিরে হ্যাপিকে বলি, “আজ অফিসে অনেক গরম লাগছিল।” হ্যাপি বলে, “এসি নেই?” আমি বলি, “আছে।” হ্যাপি আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। কিন্তু তার চোখে প্রশ্ন দেখি।
আমি জানি, এই গরম শুধু আমার। অন্যদের নেই। কারণ তারা হয়তো নিজেদের সাথে শান্তি করে নিয়েছে। আমি পারিনি।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমার এই মানসিক জ্বর যেন কমে যায়। যেন আমি এমন কিছু করতে বাধ্য না হই যা আমার বিবেক মেনে নেয় না।
কিন্তু কাল আবার সেই এসি রুমে বসতে হবে। কাল আবার গরম লাগবে। কারণ কাল আবার সেই কাজগুলো করতে হবে।
এসি মানুষকে ঠান্ডা করতে পারে। কিন্তু বিবেককে ঠান্ডা করতে পারে না।
একটু ভাবনা রেখে যান