আজ বিকালে অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটল। রাস্তার মাঝখানে হাঁটছিলাম, হঠাৎ মনে হলো সব কিছু থেমে গেছে। পাখিরা আকাশে স্থির। গাছের পাতা নড়ছে না। মানুষ যেন মূর্তি।
কিন্তু আমি চলতে থাকলাম।
এক পা, দুই পা, তিন পা – আমার শরীর এগিয়ে যাচ্ছে এমন একটা পৃথিবীতে যেখানে সময় বন্ধ।
এই কি আমার অভিশাপ? পৃথিবী যখন থেমে যায়, আমি একা চলতে থাকি?
ছোটবেলায় “মিউজিক্যাল চেয়ার” খেলতাম। মিউজিক বন্ধ হলে সবাই থেমে যেত। কিন্তু আমি কখনো ঠিক সময়ে থামতে পারতাম না। সবাই বসে গেলেও আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম।
আজও তাই। জীবনের মিউজিক বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি এখনো চলছি।
বাড়ি ফিরে দেখি হ্যাপি রান্নাঘরে স্থির দাঁড়িয়ে। হাতে চামচ, কিন্তু নড়ছে না। আরাশ বইয়ের পাতায় তাকিয়ে আছে, কিন্তু চোখের পাতা পড়ছে না।
আমি তাদের চারপাশে ঘুরছি। কথা বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা শুনতে পাচ্ছে না। তারা সময়ের সাথে থেমে গেছে।
শুধু আমি চলমান।
এই চলমান থাকাটা কি পুরস্কার না শাস্তি?
একদিকে ভাবি, আমি একমাত্র জীবিত। শুধু আমিই অনুভব করতে পারছি, চিন্তা করতে পারছি। কিন্তু অন্যদিকে এত কষ্ট – একা একা বাঁচা।
হয়তো এটাই আমার জীবনের আসল রূপ। আমি সব সময়ই এমন। পৃথিবী যখন হাসে, আমি কাঁদি। পৃথিবী যখন দৌড়ায়, আমি হাঁটি। পৃথিবী যখন থামে, আমি চলি।
আমি কখনো সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারিনি।
রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবি, হ্যাপি আর আরাশ কি জানে যে সময় থেমে গেছে? নাকি তাদের কাছে সব স্বাভাবিক?
হয়তো শুধু আমার কাছেই মনে হচ্ছে সময় থেমে গেছে। হয়তো আমিই আলাদা গতিতে চলি।
কিন্তু এই আলাদা গতিতে চলার যন্ত্রণা কে বুঝবে? যখন সবাই একসাথে নৃত্য করে, আমি একা পা ফেলি অন্য তালে।
আল্লাহ, এই যে আমি সময়ের বিপরীতে চলি, এটা কি আমার পরীক্ষা? আমি কি সেই মানুষ যাকে তুমি চিরকাল চলার জন্য তৈরি করেছ?
থামতে পারলে কত স্বস্তি পেতাম। সবার সাথে একই ছন্দে শ্বাস নিতে পারতাম।
কিন্তু না। আমি চলতে থাকি। একা। নিঃশব্দে।
হয়তো এই চলাই আমার পরিচয়।
একটু ভাবনা রেখে যান