ব্লগ

টুপির নিচে মুখোশ

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ অফিসে নতুন এক সহকর্মী এসেছে। সাদা পাঞ্জাবি, সাদা টুপি। গলায় তসবিহ। দেখেই বোঝা যায় খুব ধার্মিক মানুষ। নাম হাফিজ সাহেব।

প্রথম দিনেই সবাইকে সালাম দিলেন। নামাযের সময় হলে সবার আগে উঠলেন। “ভাইয়েরা, চলুন নামায পড়ি।” মনে একটা ভালো লাগা হলো।

এক সপ্তাহ পর দেখি ভিন্ন চেহারা। ক্লায়েন্টের পেমেন্টের হিসেবে গণ্ডগোল। হাফিজ সাহেব চুপচাপ কিছু টাকা নিজের পকেটে রেখেছেন। ধরা পড়ার পর বললেন, “এটা আমার হক।”

আমি হতবাক। যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন, কুরআন তেলাওয়াত করেন, তিনি কিভাবে এই কাজ করেন?

লাঞ্চের সময় তাকে জিজ্ঞেস করলাম। হাসতে হাসতে বললেন, “ভাই, দুনিয়ার কাজ আর দ্বীনের কাজ আলাদা। আল্লাহ সব বুঝেন।”

বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম। হ্যাপি বলল, “এখন অনেকেই ধর্ম পরে পোশাক হিসেবে।”

আরাশ জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, মানুষ কেন ভণ্ডামি করে?” আমার কোনো উত্তর নেই।

পরের সপ্তাহে আরো দেখলাম। হাফিজ সাহেব অন্যদের সামনে দ্বীনের কথা বলেন, কিন্তু কাজে অন্যায় করেন। কর্মচারীদের কম বেতন দেন, ক্লায়েন্টদের ধোঁকা দেন।

একদিন তাকে বললাম, “ভাই, এভাবে চলে?” উনি বললেন, “তুমি খুব সরল। এই জমানায় সৎ থাকলে বাঁচা যায় না।”

আমি অবাক। যিনি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তিনি বলছেন আল্লাহর পথে চলা যায় না?

রাতে আয়নার সামনে দাঁড়াই। আমি কি একা? যারা ধর্মের পোশাক পরেন, তারা কি সবাই এমন? নাকি আসল ধার্মিকরা নীরবে থাকেন?

মনে প্রশ্ন জাগে – টুপি, দাড়ি, তসবিহ এগুলো কি মনের পরিচয় দেয়? নাকি আসল পরিচয় লুকানোর মুখোশ?

বাবা বলতেন, “চরিত্রই মানুষের আসল পোশাক।” আজ দেখছি অনেকে পোশাককেই চরিত্র মনে করেন।

আরাশ ঘুমিয়ে গেছে। হ্যাপি পাশে শুয়ে আছে। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবি – আল্লাহর কাছে আমাদের পোশাক কি দেখায়? নাকি আমাদের কাজ?

আমি কি সঠিক? নাকি আমি অতিরিক্ত ভাবি?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *