আজ সকালে চাকরির ইন্টারভিউ থেকে ফিরেছি। ভালো হয়েছে। কিন্তু রেজাল্ট পেতে এক সপ্তাহ লাগবে। এই অপেক্ষার সময়টায় মাথায় একটাই প্রশ্ন—আমি চাকরি পাবো কি না?
হ্যাপি বলল, “তুমি ভালো দিয়েছো। পাবে।” কিন্তু আমার মনে হয়—এটা কি আমার প্রস্তুতির উপর নির্ভর করছে? নাকি ভাগ্যের উপর?
আমি কতক্ষণ পড়েছি। কত প্রশ্নের উত্তর তৈরি করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে? ইন্টারভিউ বোর্ড? নাকি ভাগ্য?
দুপুরে জামিউরের ফোন এলো। “শুনেছি ইন্টারভিউ দিয়েছিস?” “হ্যাঁ।” “এবার পাবি। কারণ তুই চেষ্টা করেছিস।”
জামিউর কর্মে বিশ্বাসী। তার মতে—”যে চেষ্টা করে, সে পায়।” কিন্তু আমি জানি—অনেকে চেষ্টা করেও পায় না।
সাইফুল আলাদা মত দেয়। “সব ভাগ্যের খেলা ভাই। যার ভাগ্যে আছে, সে পায়।” তার কথা অনুযায়ী আমার চেষ্টা করার দরকার নেই। যা হওয়ার হবেই।
কিন্তু আমি কোনটা বিশ্বাস করবো?
আমার মনে পড়ল বাবার কথা। বাবা বলতেন, “আল্লাহ্ তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে।” মানে কর্ম করতে হবে, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে।
আমি নিজের জীবনটা দেখলাম। আমি হ্যাপিকে ভালোবেসেছি—এটা কর্ম। কিন্তু সেও আমাকে ভালোবেসেছে—এটা কি ভাগ্য?
আরাশের জন্ম—এটা কি আমাদের পরিকল্পনা, নাকি প্রকৃতির পরিকল্পনা?
আমার এই চাকরি হারানো—এটা কি আমার ভুল? নাকি বাজারের অবস্থা?
আমি ভাবলাম—হয়তো ভাগ্য আর কর্ম আলাদা কিছু নয়। হয়তো এরা একসাথে কাজ করে।
আমার কর্ম হলো—চেষ্টা করা। প্রস্তুতি নেওয়া। সময়মতো পৌঁছানো। সেরা দেওয়া।
ভাগ্য হলো—সেদিন ইন্টারভিউয়ার ভালো মুডে ছিল কি না। অন্য প্রার্থীরা কেমন ছিল। কোম্পানির সেদিনের প্রয়োজন কী।
আমি যদি চেষ্টা না করি, তাহলে ভাগ্য কাজ করার সুযোগ পায় না। আর আমি যদি শুধু চেষ্টা করি কিন্তু ভাগ্য বিপরীত থাকে, তাহলেও কাজ হয় না।
সন্ধ্যায় আরাশকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কি মনে করো—তোমার পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াটা তোমার পড়াশোনার জন্য, নাকি ভাগ্যের জন্য?”
আরাশ ভেবে বলল, “দুটোর জন্যই। আমি পড়ি। কিন্তু প্রশ্ন সহজ আসা, অসুস্থ না পড়া—এসব তো আমার হাতে নেই।”
আমি অবাক হলাম। এগারো বছরের ছেলে এত পরিষ্কার করে বুঝতে পারে?
হ্যাপিকে বললাম, “তুমি কী মনে করো?” সে বলল, “আমি মনে করি—কর্ম আমাদের হাতে, ফল আল্লাহর হাতে। আমরা যা পারি করি। বাকিটা ছেড়ে দিই।”
আমার মনে হলো—এভাবেই হয়তো ভাবতে হয়। আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। চেষ্টা করবো। সততার সাথে কাজ করবো।
কিন্তু ফলাফলের জন্য পাগল হয়ে যাবো না। কারণ ফলাফল শুধু আমার উপর নির্ভর করে না।
রাতে শুয়ে ভাবলাম—আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো কীভাবে এসেছে? হ্যাপির ভালোবাসা, আরাশের জন্ম, বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক—এগুলো কি শুধু আমার চেষ্টায়? নাকি ভাগ্যও জড়িত?
আমি বুঝলাম—জীবনে ভাগ্য আর কর্ম দুটোই প্রয়োজন। কর্ম ছাড়া ভাগ্য কাজ করে না। আর ভাগ্য ছাড়া কর্ম সফল হয় না।
তাহলে প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয়—কোনটির প্রভাব বেশি? প্রশ্ন হওয়া উচিত—কীভাবে দুটোকে একসাথে কাজে লাগানো যায়?
উত্তর: আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এরপর ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেবো। না পেলে আবার চেষ্টা করবো।
এই সমন্বয়েই হয়তো জীবনের রহস্য লুকিয়ে আছে।
একটু ভাবনা রেখে যান