টিকটকে একটা ভিডিও দেখলাম। একটা ছেলে নামাজ পড়ছে। খুব সুন্দর করে ভিডিও বানিয়েছে। আলো ঠিক আছে, কোণ ঠিক আছে। লিখেছে, “যখন বুঝলাম আল্লাহ দেখছেন।”
পাঁচ লাখ লাইক পেয়েছে। হাজার হাজার কমেন্ট। সবাই বলছে, “মাশাআল্লাহ ভাই!”
আমি দেখে ভাবলাম – এটা কী? সে কি সত্যিই নামাজ পড়ছে, নাকি অভিনয় করছে?
তারপর মনে হলো, আমি কেন এসব ভাবছি? হয়তো সে আসলেই আল্লাহর জন্য নামাজ পড়েছে। শুধু ভিডিও করে শেয়ার করেছে।
কিন্তু মনে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। সে যখন নামাজে দাঁড়িয়েছিলো, তখন কী ভেবেছিলো? আল্লাহর কথা? নাকি কতজন দেখবে সেই কথা?
হয়তো দুটোই ভেবেছে। মানুষ তো এরকমই। এক সাথে অনেক কিছু ভাবে।
আমি তার পেজ দেখলাম। রোজ এরকম ভিডিও দেয়। কখনো নামাজ, কখনো দোয়া, কখনো কোরআন পড়া। সবই খুব সুন্দর করে বানানো।
মনে হলো, এটা তার কাজ। ভালো ভিডিও বানিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বলা। খারাপ কী?
কিন্তু তাহলে আমার মন খারাপ কেন? কেন মনে হচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই?
হয়তো কারণ নামাজ আমার কাছে একটা গোপন ব্যাপার। আল্লাহর সাথে নিজের কথা। কিন্তু যখন সেটা সবার সামনে হয়, তখন ভালো লাগে না।
নাকি আমি ভুল ভাবছি? হয়তো এখনকার যুগে এভাবেই ইসলাম শেখানো হয়। ফেসবুক, টিকটক – এসবের মাধ্যমে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, সে কেন করে? মানুষের ভালোর জন্য? নাকি নিজে বিখ্যাত হওয়ার জন্য?
জানি না। হয়তো দুটোই। হয়তো সে ভাবে, “আমি বিখ্যাত হলে মানুষ আমার কথা শুনবে। তাহলে ভালো কাজ হবে।”
কিন্তু সেই চিন্তাটা কি ঠিক? “আমার মাধ্যমে মানুষ ধর্মের কাছে আসবে” – এটা ভাবা কি অহংকার?
নাকি আমি খুব বেশি ভাবছি? হয়তো সে শুধু খুশি হয়ে শেয়ার করেছে। নামাজ পড়ে যে শান্তি পেয়েছে, সেটা।
তাহলে আমার আপত্তি কেন?
একটা জিনিস খেয়াল করেছি। সে নামাজ পড়ার সময় একবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছে। খুব ছোট্ট একটা মুহূর্ত।
সেই মুহূর্তে কি তার মনোযোগ চলে গেছে? নামাজ থেকে ক্যামেরায়?
আমি জানি না। হয়তো না। হয়তো সে ক্যামেরার কথা একদম ভুলে গিয়েছিলো।
কিন্তু আমি যেটা দেখি, সেটা হলো একটা pattern. আজকাল মানুষ সবকিছুই ভিডিও করে। খাওয়া, ঘুমানো, কান্না, হাসি। সবই।
তাহলে নামাজও কি ভিডিও হয়ে যাবে? দোয়াও?
হয়তো এটাই নতুন দুনিয়া। যেখানে সবকিছুই শেয়ার করা হয়।
কিন্তু কোরআনে তো বলা আছে, “তোমরা দেখানোর জন্য নামাজ পড়ো না।”
তাহলে এটা কী? দেখানো? নাকি শেখানো?
পার্থক্য কোথায়?
হয়তো নিয়তে। কিন্তু নিয়ত তো বোঝা যায় না।
আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম – আমি কি jealous? তার followers দেখে?
সত্যি কথা বলতে, একটু হয়তো। আমিও চাই মানুষ আমার কথা শুনুক।
তাহলে আমার criticism কি ঠিক? নাকি ঈর্ষা?
জানি না। আমি শুধু জানি, নামাজকে content হিসেবে দেখলে আমার খারাপ লাগে।
হয়তো আমি ভুল। হয়তো এটাই ভবিষ্যৎ।
কিন্তু তাহলে আল্লাহর সাথে একান্ত কথা বলার জায়গাটা কী হবে?
হয়তো সেটাও থাকবে। হয়তো public আর private – দুটোই চলবে।
কিন্তু তাহলে কীভাবে বুঝবো কে আসল, আর কে নকল?
উত্তর নেই।
হয়তো থাকার দরকারও নেই।
হয়তো আমার কাজ শুধু নিজের নামাজ ঠিক রাখা।
একটু ভাবনা রেখে যান