১৪ই ফেব্রুয়ারি।
ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগ দেওয়া দিন।
কিন্তু আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাল নেই। শুধু কালো।
দোকানে ঢুকি। গোলাপের দাম দেখে চমকে যাই।
একটা গোলাপ ৫০ টাকা। গতকাল ১০ টাকা ছিল।
চকলেটের দাম তিনগুণ।
কার্ডের দাম দ্বিগুণ।
এই একটা দিনে পুরো বাজার পাগল হয়ে যায়।
আর আমাকেও পাগল হতে হয়।
কারণ আজ প্রমাণ করতে হবে আমি ভালোবাসি।
টাকা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।
আমি গরিব। কিন্তু আজ ভালোবাসায় গরিব হতে পারব না।
একটা কার্ড কিনলাম। ২০০ টাকা।
ভিতরে কী লিখব?
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
কিন্তু এটা তো আমি প্রতিদিন বলতে পারি। বিনা পয়সায়।
তাহলে আজকের ভালোবাসার দাম ২০০ টাকা?
বছরের বাকি ৩৬৪ দিন ভালোবাসা বিনামূল্যে?
এই গণিত আমি বুঝি না।
গোলাপ কিনলাম। ১০০ টাকা।
ফুলটা আগামীকাল মরে যাবে।
কিন্তু আজ আমাকে এই মরণশীল ফুল দিয়ে অমরত্ব প্রমাণ করতে হবে।
একটা চকলেট বক্স কিনলাম। ৫০০ টাকা।
সেই চকলেট এক সপ্তাহে শেষ হবে।
কিন্তু আজ এই চকলেট দিয়ে চিরন্তন মিষ্টতা জানাতে হবে।
মোট খরচ ৮০০ টাকা।
একদিনের ভালোবাসার দাম ৮০০ টাকা।
বছরে একবার।
বাকি বছরের ভালোবাসা হিসাবে আসে না।
আমি বিরক্ত হয়ে ভাবি—কে এই নিয়ম বানিয়েছে?
কে বলেছে ভ্যালেন্টাইনে উপহার দিতে হবে?
কে বলেছে প্রেম টাকা দিয়ে মাপা হয়?
কিন্তু আমি এই নিয়ম মানতে বাধ্য।
কারণ সবাই মানে।
কারণ আমি যদি না দিই, মনে হবে আমি কৃপণ।
মনে হবে আমি ভালোবাসি না।
ঘরে ফিরে উপহার দিলাম।
খুশি হলো। কিন্তু আমি খুশি হলাম না।
কারণ এই খুশিটা কিনে আনা।
এই ভালোবাসা বাজার থেকে কেনা।
আমার মনের ভালোবাসা নয়।
রাতে ভাবলাম—প্রেমের কি দিন লাগে?
আমি কি শুধু ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসি?
নাকি সারাবছর?
যদি সারাবছর, তাহলে একটা দিনের এত গুরুত্ব কেন?
আমি কি ব্যর্থ প্রেমিক যে একটা নির্দিষ্ট দিনে প্রমাণ করতে হয় আমি ভালোবাসি?
আমার প্রতিদিনের যত্ন কি যথেষ্ট নয়?
আমার প্রতিদিনের উপস্থিতি কি যথেষ্ট নয়?
ভ্যালেন্টাইন একটা পরীক্ষা।
যেখানে পাশ করতে হলে টাকা লাগে।
আর আমি একজন মধ্যবিত্ত পরীক্ষার্থী।
প্রতিবছর কোনোরকমে পাশ করি।
কিন্তু ভালো নম্বর পাই না।
একটু ভাবনা রেখে যান