ব্লগ

ভাঙা আয়নার টুকরো

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারি না। এই লোকটা কে? এর মুখ দেখেছি কোথায়?

জানি যে এটা আমি। কিন্তু মনে হয় না এটা আমি।

এই চেহারা, এই চোখ, এই মুখ – সবকিছু পরিচিত। কিন্তু অচেনা। যেন একটা ছবি দেখছি। কারো অন্য ছবি।

মিটিংয়ে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করি। “আমি পারব। আমি ভালো। আমার কথায় দম আছে।”

কিন্তু আয়নার লোকটা হাসে। বলে – “তুমি কী পারবে? তুমি কে?”

আমি জানি না আমি কে।

অফিসে গেলে সবাই আমাকে “হায়দার” বলে ডাকে। বাড়িতে গেলে “বাবা” বলে ডাকে। বন্ধুরা নাম ধরে ডাকে।

কিন্তু এই নামগুলো কি আমি? নাকি এগুলো আমার ওপর লাগানো label?

আমি label খুলে ফেললে ভেতরে কী থাকে?

মিটিংয়ে বসি। সবাই কথা বলছে। আমিও কথা বলার কথা। কিন্তু মুখ খুলতে পারি না।

ভাবি – “আমি যা বলব, সেটা কি ঠিক? আমার কথায় কি value আছে? আমি কি qualified?”

এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। আর মুখ বন্ধ থেকে যায়।

পরে সবাই চলে গেলে ভাবি – “আমি কেন কথা বলিনি? আমার কাছে তো idea ছিল।”

কিন্তু সেই idea আমার নিজের? নাকি কোথাও পড়া বা শোনা?

কিছুই নিজের মনে হয় না। মনে হয় সবকিছু borrowed। সবকিছু অন্যদের কাছ থেকে নেওয়া।

বন্ধু রিফাত বলে, “তুমি খুব ভালো লেখো।” আমি বলি, “ধন্যবাদ।” কিন্তু ভেতরে ভাবি – “আমি কি সত্যিই ভালো লিখি? নাকি সে social courtesy হিসেবে বলছে?”

যেকোনো প্রশংসা শুনলে সন্দেহ হয়। মনে হয় – “এটা ভুল প্রশংসা। ভুল মানুষকে দেওয়া।”

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দিনের account করি। কী ভালো করেছি? কী মন্দ করেছি?

বেশিরভাগ সময় মন্দের list বেশি হয়। “এই কথাটা বলা উচিত হয়নি। ওই কাজটা ভালো হয়নি।”

ভালো কাজগুলো মনে হয় – “এগুলো তো কিছুই না। এগুলো যে কেউ পারত।”

হ্যাপি বলে, “তুমি একজন ভালো স্বামী।” আমি বলি, “আমি তো কিছুই করি না।” সে বলে, “অনেক কিছু করো।”

কিন্তু আমি দেখি না “অনেক কিছু”। আমি দেখি “যা করা উচিত ছিল কিন্তু করিনি”।

আরাশ বলে, “বাবা, তুমি সব জানো।” আমি ভাবি – “আমি কিছুই জানি না। আমি ভান করছি যে জানি।”

এই ভান করাটা ক্লান্তিকর। প্রতিদিন একটা role play করতে হয়। Acting করতে হয় যে আমি confident।

কিন্তু আসলে আমি একটা শিশু। একটা lost শিশু। যে জানে না সে কোথায় আছে, কেন আছে।

অন্যরা কীভাবে এত নিশ্চিত? তারা কীভাবে জানে তারা কী করছে?

নাকি সবাই acting করছে? সবাই ভান করছে?

হয়তো পুরো পৃথিবীটাই একটা থিয়েটার। আর সবাই অভিনেতা। কেউ স্বীকার করছে না যে তারা জানে না তাদের dialog।

মাঝে মাঝে ভাবি – “আমি কি depression-এ আছি? নাকি এটাই normal?”

হয়তো যারা confident, তারাই abnormal। হয়তো সন্দেহ করাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এই সন্দেহ এত কষ্টকর। এই অনিশ্চয়তা এত ভারী।

কোনো একটা বিষয়ে যদি নিশ্চিত হতে পারতাম। যদি বলতে পারতাম – “এই ব্যাপারে আমি expert।”

কিন্তু কোনো কিছুতেই নিজেকে expert মনে হয় না। সবকিছুতেই মনে হয় – “আমি এখনো শিখছি।”

হয়তো এটাই ভালো। হয়তো “এখনো শিখছি” attitude ভালো।

কিন্তু confidence তো লাগে। নিজের ওপর বিশ্বাস তো লাগে।

সেই বিশ্বাস কোথায় পাব? কোথায় খুঁজব?

হয়তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। আর নিজেকে বলে – “তুমি যাই হও, তুমি আছো। এটাই যথেষ্ট।”

“তুমি perfect নও। কিন্তু তুমি trying করছো। এটাই যথেষ্ট।”

হয়তো confidence মানে perfect হওয়া নয়। Confidence মানে imperfection নিয়েও এগিয়ে যাওয়া।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *