আজ বিকেলে আলমারি থেকে পুরনো কিছু কাগজপত্র বের করতে গিয়ে একটা খাতা পেলাম। Class 5-এ লেখা “আমার স্বপ্ন” রচনা। পড়তে গিয়ে হেসে ফেললাম। লিখেছিলাম – “আমি বড় হয়ে pilot হব। আকাশে উড়ে বেড়াব। সারা পৃথিবী দেখব।”
এখন আমি একটা office-এ বসে ফাইল ঘাটি। আকাশের দিকে তাকানোর সময়ও নেই।
আরাশকে দেখালাম খাতাটা। “দেখ, তোর বাবার childhood dream।”
“বাবা, তুমি pilot হতে চেয়েছিলে? এখনও পারো তো!”
আমার ভিতরে একটা অ্যাপ খুলে গেল যার নাম “হারানো স্বপ্নের ব্যথা ভার্সন বাস্তবতা”।
“না আরাশ। এখন সেই বয়স নেই। আর সাহসও নেই।”
“কেন?”
“কারণ এখন responsibility আছে। তোদের দেখাশোনা করতে হয়।”
আরাশ চুপ করে গেল। তারপর বলল, “বাবা, আমার জন্য তুমি তোমার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছ?”
প্রশ্নটা আমার বুকে বিঁধল।
রাতে হ্যাপির সাথে কথা বলছিলাম। “তোর childhood dream কী ছিল?”
“আমি teacher হতে চেয়েছিলাম। একটা স্কুল খুলব ভেবেছিলাম।”
“এখন কেমন লাগে?”
“মনে হয় সেই মেয়েটা অন্য কেউ ছিল। এখনকার আমি তাকে চিনি না।”
হ্যাপি একটু থেমে বলল, “কিন্তু জানিস হায়দার? আমি আরাশকে যা শেখাই, সেটা একরকম teaching-ই।”
আমি ভাবলাম। সত্যি তো। আমার pilot হওয়ার স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু আমি আরাশকে শিখিয়েছি কীভাবে উঁচুতে উড়তে হয়। মানসিকভাবে।
পরদিন আরাশকে জিজ্ঞেস করলাম, “তোর স্বপ্ন কী?”
“আমি artist হব। আমার art দিয়ে মানুষের মন ছুঁয়ে দেব।”
“যদি পারো না?”
আরাশ একটু ভেবে বলল, “তাহলেও চেষ্টা করব। কিন্তু বাবা, তুমি কেন তোমার স্বপ্ন নিয়ে এত দুঃখি? তুমি তো আমাকে উড়তে শিখিয়েছ।”
আমি থমকে গেলাম।
“কেমন?”
“তুমি আমাকে শিখিয়েছ honest থাকতে, যেখানে সবাই চুরি করে। এটা কি flying নয়? তুমি আমাকে শিখিয়েছ স্বপ্ন দেখতে। এটা কি pilot হওয়ার চেয়ে কম?”
নামাজ পড়ে ভাবছিলাম। হয়তো আল্লাহর plan ভিন্ন ছিল। আমি pilot হয়ে airplane চালাতাম। এখন আমি আরাশের স্বপ্ন চালাই।
সকালে আয়নায় নিজেকে দেখলাম। সেই class 5-এর ছেলেটা আমার মধ্যে আছে। শুধু তার স্বপ্নের shape বদলেছে।
আরাশকে বললাম, “তুই যখন artist হবি, মনে রাখিস তোর বাবা একসময় pilot হতে চেয়েছিল। আর এখন সে তোর স্বপ্নের co-pilot।”
শৈশবের স্বপ্নগুলো মরে যায় না। তারা metamorphosis হয়। পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নে রূপান্তরিত হয়।
আমি আকাশে উড়তে পারিনি। কিন্তু আরাশকে দিয়ে উড়াতে পারব।
একটু ভাবনা রেখে যান