আয়নায় দেখি আমার হাত কাঁপছে। সামান্য, কিন্তু কাঁপছে।
ডাক্তার বলেছেন, “নার্ভের সমস্যা। বয়সের সাথে হয়।”
আমার শরীর ভেঙে পড়ছে টুকরো টুকরো করে। কিন্তু আমি মানতে পারি না।
আমার মন এখনো তেত্রিশ বছরের। ভাবি দৌড়াব, খেলব, লিখব।
কিন্তু শরীর বলে, “না।”
আমি একটা কলম তুলতে গিয়ে হাত কাঁপে। লিখতে গিয়ে অক্ষর উল্টাপাল্টা হয়।
মনে মনে ভাবি হাজারো কথা। কিন্তু লিখতে পারি না।
এই দ্বন্দ্ব আমাকে পাগল করে দেয়।
আমার মন বলে, “তুমি এখনো যুবক।”
আমার শরীর বলে, “তুমি বুড়ো হয়ে গেছ।”
কার কথা শুনব?
আমি মনের কথা শুনতে চাই। কিন্তু শরীর জোর করে।
আমি স্বপ্ন দেখি দৌড়ানোর। ঘুম ভাঙলে দেখি হাঁটতেও কষ্ট।
আমি স্বপ্ন দেখি লেখার। জেগে দেখি হাত কাঁপায়।
আমার মন অক্ষত, কিন্তু তার বাহন ভগ্ন।
আমি ভাবি, এই লড়াইয়ে কে জিতবে? মন না শরীর?
আমি মনের পক্ষে। আমি চাই মন জিতুক।
আমি অনুশীলন করি। কাঁপা হাতে লিখি। ভুল হয়, কিন্তু লিখি।
আমি জোর করে হাঁটি। কষ্ট হয়, কিন্তু হাঁটি।
আমি মনকে হাল ছাড়তে দিতে চাই না।
হ্যাপি বলে, “তুমি নিজেকে কষ্ট দিও না। বিশ্রাম নাও।”
কিন্তু বিশ্রাম মানে হার মানা।
আমি হারতে চাই না।
যদিও জানি, এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত শরীরই জিতবে।
কিন্তু ততদিন আমি মনের জোর রাখব।
ভাঙা শরীরে অটুট মন।
এটাই আমার শেষ যুদ্ধ।
একটু ভাবনা রেখে যান