ব্লগ

ভারে নুয়ে পড়া

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ।

তিনবার বলার কথা। কিন্তু মুখ থেকে বের হতেই পেটের ভিতর কেমন মুচড়ে ওঠে। গতকালের সেই মিথ্যাটা মনে পড়ে যায়। সপ্তাহ আগে কাজের লোকটাকে যে কম টাকা দিয়েছিলাম, সেটা মনে পড়ে যায়। মাসখানেক আগে রাগ করে হ্যাপিকে যে কথাটা বলেছিলাম, সেটাও।

আস্তাগফিরুল্লাহ বলছি, কিন্তু সাথে সাথে মনে হচ্ছে – আমি কি সত্যিই ক্ষমা চাচ্ছি? নাকি শুধু একটা অভ্যাসের মতো বলছি?

ক্ষমা চাওয়ার মানে তো হচ্ছে আগে ভুলটা স্বীকার করা। আর আমি কি স্বীকার করছি? নাকি ভাবছি – “এটা তো খুব বড় কিছু না, সবাই করে।”

আবার বলি – আস্তাগফিরুল্লাহ। এবার যেন আরো ভারী লাগে। মনে পড়ে যায় বছরখানেক আগে একজনের সাথে যেভাবে প্রতারণা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল – বাঁচার জন্য করতে হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে – বাঁচার জন্য নয়, আরো পাওয়ার জন্য।

আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ। আস্তাগফিরুল্লাহ।

এভাবে বলতে বলতে হঠাৎ কান্না চলে আসে। এই কান্না কোথা থেকে আসে? দুঃখ থেকে? লজ্জা থেকে? নাকি হতাশা থেকে যে আমি আর ভালো হতে পারব না?

মনে পড়ে যায় ছোটবেলার কথা। তখন ভাবতাম – বড় হলে আমি ভালো মানুষ হব। সব ঠিক করব। কোনো পাপ করব না। এখন বুঝি – আমি উল্টো দিকে এগিয়েছি।

আস্তাগফিরুল্লাহ বলার সময় মনে হয় – আল্লাহ কি আমার কথা শুনছেন? নাকি ভাবছেন, “এই লোক আবার এসেছে। কাল আবার পাপ করবে, আবার ক্ষমা চাইবে।”

তাহলে কি আমার এই ইস্তিগফার মিথ্যা? নাকি আমি সত্যিই পারি না বদলাতে?

একসময় ইস্তিগফার বলতে বলতে মনে হয় – হয়তো আমি খুব বেশি এক্সপেক্ট করছি নিজের কাছ থেকে। হয়তো মানুষ মাত্রই পাপী। আর তাই বারবার তওবা করতে হয়।

কিন্তু এরপরই আবার মনে হয় – এটা কি আরেকটা অজুহাত? “মানুষ মাত্রই পাপী” বলে কি আমি নিজেকে মাফ করে দিচ্ছি?

আস্তাগফিরুল্লাহ। শেষ বারের মতো বলি। এবার আর কান্না আসে না। কেমন একটা ক্লান্তি আসে। মনে হয় – ঠিক আছে, আজকের মতো এটুকুই। কাল আবার চেষ্টা করব।

কিন্তু জানি – কালও এই একই অবস্থা হবে। একই পাপ, একই অনুশোচনা, একই ইস্তিগফার।

হয়তো এটাই মানুষের জীবন। পাপ করা আর ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দোল খাওয়া।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *