ব্লগ

কাগজে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

বীমা কোম্পানির অফিসে বসে আছি। আমার সামনে একটা ফর্ম। আরাশের নাম লেখা।

“স্যার, আপনার ছেলের বয়স যখন আঠারো হবে, তখন তিন লাখ টাকা পাবে। আপনার মৃত্যু হলে দশ লাখ টাকা।”

দশ লাখ টাকা। আমার মৃত্যুর দাম।

আমি কলম হাতে নিয়ে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। কিন্তু হাত কাঁপছে।

এই কাগজে স্বাক্ষর করা মানে মেনে নেওয়া যে আমি মরে যেতে পারি। আরাশ একা হয়ে যেতে পারে।

“স্যার, কোনো সমস্যা?”

“না, কোনো সমস্যা নেই।”

আমি স্বাক্ষর করি।

মাসিক প্রিমিয়াম পাঁচ হাজার টাকা। আমার মাসিক আয়ের চতুর্থাংশ।

কিন্তু আরাশের নিরাপত্তার জন্য এই টাকা দিতেই হবে।

আমি ভাবি, আমার বাবা কি আমার জন্য এমন কোনো বীমা করেছিলেন?

করেননি। তখন মানুষ এসব ভাবত না।

কিন্তু আমার প্রজন্ম ভিন্ন। আমরা ভবিষ্যতের চিন্তা করি।

অফিস থেকে বের হয়ে আমি ভাবি, আমি কি নিজের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি?

এই বীমা পলিসি আমার আরাশের প্রতি দায়বদ্ধতার চিহ্ন।

আমি জানি আমি সবসময় থাকব না। কিন্তু আমার দায়িত্ব থেকে যাবে।

বাড়িতে ফিরে আরাশকে দেখি। সে লেখাপড়ায় ব্যস্ত।

আমি তাকে বলি না যে আমি তার জন্য বীমা করেছি। কারণ সে মৃত্যুর কথা ভাবুক, এটা আমি চাই না।

কিন্তু আমি জানি, এই পলিসিটা আমার মনের শান্তি এনে দিয়েছে।

আমার সাথে কিছু হলে আরাশ অন্তত পথে বসবে না।

এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পেরেছি।

রাতে হ্যাপিকে বলি, “আমি আরাশের জন্য একটা বীমা করেছি।”

হ্যাপি চুপ হয়ে যায়।

“তুমি কি মরে যাওয়ার কথা ভাবছ?”

“না। কিন্তু সতর্কতা।”

হ্যাপি বোঝে। সেও জানে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

আমি ভাবি, একটা কাগজে স্বাক্ষর করে আমি আরাশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারলাম।

কিন্তু তার সুখ? তার ভালোবাসা? সেগুলো নিরাপদ করব কীভাবে?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *