সকালে উঠে আরাশের পাশে বসেছিলাম। হঠাৎ তাকে দেখি বিয়ের পোশাক পরে। দাড়ি গজিয়েছে। পাশে এক অপরিচিত মেয়ে।
“বাবা, এটা মিতা। আমার স্ত্রী।”
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আরাশ তো এগারো বছরের। এ কী হলো?
হ্যাপি এসে বলল, “তুমি কী ভাবছ? নাতিটার নাম কী রাখব?”
নাতি? আমার নাতি?
আয়নায় দেখি আমার চুল পুরোপুরি সাদা। হাঁটতে লাঠি লাগে।
আমি ভবিষ্যতে চলে এসেছি। কিন্তু কবে? কীভাবে?
আরো অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই ভবিষ্যতে এসেও আমার সেই একই সমস্যা। কথা বলতে পারছি না ঠিকমতো।
আরাশ বলছে, “বাবা, তুমি কিছু বলছ না কেন? নাতির নাম নিয়ে কোনো মতামত নেই?”
আমি মুখ খুলতে চাইছি। কিন্তু কথা আটকে যাচ্ছে গলায়।
বিশ বছর পরেও আমি সেই নিরব হায়দার।
এই ভবিষ্যৎ দেখে ভয় পেলাম। চোখ বন্ধ করে বললাম, “আমি ফিরে যেতে চাই। আমার বর্তমানে।”
কিন্তু চোখ খুলে দেখি আমি এখনো সেই ভবিষ্যতেই আছি।
আরাশের ছেলেটা হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমার কাছে এলো। “দাদু” বলে ডাকল।
“দাদু, তুমি আমার সাথে খেলবে?”
আমি তাকে কোলে নিয়ে ভাবলাम, এই শিশুও কি একদিন আমার মতো হয়ে যাবে? সেও কি কথা বলতে পারবে না?
হ্যাপি অনেক বুড়ো হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সংসার সামলাচ্ছে। আমাকে দেখে বলল, “তুমি আজকাল বেশি চুপচাপ থাক। কী ভাবছ?”
বলতে চাইলাম, “আমি অতীতে ফিরে যেতে চাই।” কিন্তু বললাম কিছুই না।
রাতে বিছানায় শুয়ে বুঝলাম, আমি ভবিষ্যতের ফাঁদে আটকে গেছি। ফিরতে পারছি না। কারণ অতীত আমাকে চায় না।
বর্তমান আমাকে ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই। কারণ আমি কখনোই বর্তমানে পুরোপুরি ছিলাম না।
আমি সব সময়ই অন্য কোথাও ছিলাম। অতীতের দুঃখে। ভবিষ্যতের চিন্তায়।
আর এখন সেই ভবিষ্যৎ এসে গেছে। কিন্তু এই ভবিষ্যতে আমার কোনো জায়গা নেই।
আল্লাহ, আমি কি চিরকাল এই ভবিষ্যতে আটকে থাকব? যেখানে আমি একজন বৃদ্ধ, কিন্তু মন এখনো সেই বিভ্রান্ত যুবকের?
হয়তো এটাই আমার শাস্তি। যে মানুষ কোনো সময়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারে না, সে সব সময়ই ভুল জায়গায় আটকে থাকে।
কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, এই ভবিষ্যতে এসেও আমি সেই একই মানুষ।
সময় বদলেছে। কিন্তু আমি বদলাইনি।
একটু ভাবনা রেখে যান