
আয়না
তুমি নিজেকে কখনো দেখোনি। সারাজীবন আয়না দেখেছ।
রাত তিনটা
রাত তিনটায় বাথরুমে ঢোকো।
আলো জ্বালাও।
আয়নায় একজন দাঁড়িয়ে।
তিন সেকেন্ড লাগে চিনতে।
ও। আমি।
তিন সেকেন্ড।
ওই তিন সেকেন্ডে আয়নার লোকটা কে ছিল?
উল্টো মানুষ
ডান হাতে ব্যাগ।
আয়নায় বাঁ হাতে।
তুমি ডানে তাকাও। আয়নার মানুষ বাঁয়ে তাকায়।
তার মানে যাকে তুমি সারাজীবন “আমি” বলে দেখেছ — সে তুমি না।
সে তোমার উল্টো।
তাহলে আসল তুমি কোথায়?
পুরনো ছবি
সাত বছর বয়সের একটা ছবি।
ছোট শিশু। হাফপ্যান্ট। হাসি।
এই শিশু তুমি?
চেহারায় মিল নেই। চিন্তায় মিল নেই। শরীরের প্রতিটা কোষ বদলে গেছে।
সেই শিশুর একটা কোষও এখন তোমার শরীরে নেই।
তাহলে কোন সূত্রে তুমি আর সে একই মানুষ?
স্মৃতি?
কিন্তু সেদিনটাই মনে নেই। কে ছবি তুলেছিল। কোথায় ছিলে।
তাহলে?
দুটো আয়না
একটা পরীক্ষা করো।
দুটো আয়না নাও। একটার সামনে আরেকটা রাখো। একটু কোণ করে।
এবার দেখো।
মুখটা চিনবে না।
নাক বাঁকা লাগবে। একটা চোখ ছোট।
কিন্তু এটাই তুমি।
এটাই অন্যরা দেখে।
সারাজীবন যাকে “আমি” বলে জেনেছ — সে একটা ভুল ছবি।
আসল তুমি — যাকে তুমি কোনোদিন দেখোনি।
কতজন তুমি
সন্তান আরেক তোমাকে দেখে।
বন্ধু আরেক।
অফিসের মানুষ আরেক।
কোনটা তুমি?
সব?
একটাও না?
এবং তুমি নিজে নিজেকে কেমন দেখো — সেটাও পরিবর্তন হয়।
সকালে এক। রাতে আরেক।
খুশি থাকলে এক। মন খারাপ হলে আরেক।
তাহলে কোনটা সত্যি তুমি?
ঝাপসা কাচ
জানালার কাচে মুখ দেখো।
বৃষ্টি পড়ছে। ছবি ঝাপসা।
সেই ঝাপসা মুখটাকে বেশি চেনা লাগে।
কেন?
কারণ স্পষ্ট আয়না মিথ্যা বলে।
সে বলে — এটাই তুমি।
কিন্তু এটা তুমি না।
ঝাপসা কাচ সৎ।
সে বলে — আমি তোমাকে স্পষ্ট দেখাতে পারি না।
এটাই সত্য।
কেউ পারে না।
তুমি নিজেও না।
শিশুর প্রশ্ন
একটা শিশু জিজ্ঞেস করে —
আয়নায় যে থাকে, আমি চলে গেলে সে কি থেকে যায়?
নাকি সে-ও চলে যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর কী?
হয়তো সে থাকে।
হয়তো সে তোমার চেয়ে বেশি টেকসই।
সে বুড়ো হয় না। অসুস্থ হয় না। মরে না।
তুমি মরলেও সে থাকবে।
পরের মানুষের জন্য।
তাহলে কে বেশি আসল?
একটাই সত্য
তুমি কে — এটা তুমি জানো না।
কখনো জানোনি।
কখনো জানবেও না।
কারণ যাকে তুমি “আমি” বলো, সে একটা ধারণা।
মাথার ভেতরে একটা ছবি।
সেই ছবি তৈরি হয়েছে আয়না থেকে। পুরনো ছবি থেকে। মানুষের কথা থেকে।
কিন্তু কোনোটাই তুমি না।
নিয়ন্ত্রণ কার
নাকি জীবন তোমাকে চালাচ্ছে?
তুমি কি তোমার চিন্তা ভাবছ?
নাকি চিন্তা তোমাকে ভাবাচ্ছে?
আয়নায় তাকাচ্ছ?
নাকি আয়না তোমাকে টানছে?
জানি না
রাতে আবার বাথরুমে যাও।
আলো জ্বালাও।
আয়নায় তাকাও।
জিজ্ঞেস করো — তুমি কে?
আয়না বলবে — জানি না।
তুমিও বলবে — জানি না।
এই “জানি না” —
এটাই একমাত্র সৎ উত্তর।

একটু ভাবনা রেখে যান