রাত গভীর হলেই জিনিয়ার মুখটা ভেসে আসে।
১৮ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু তার হাসিটা এখনো আমার চোখের পাতায় জমে আছে।
আমি একটা অপরাধী।
একটা নিখুঁত স্ত্রী আছে। একটা সুন্দর সংসার আছে।
তবু আমি অন্য একটা মেয়েকে মনে রাখি।
এটা কি বিশ্বাসঘাতকতা?
জিনিয়া ছিল আমার প্রথম প্রেম। প্রথম স্পর্শ। প্রথম চুম্বন।
সেই অনুভূতিগুলো আমার ভিতর পাথর হয়ে জমে আছে।
আমি যখন এখনকার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট, তখনো মাঝে মাঝে ভাবি—জিনিয়ার সাথে থাকলে কেমন হত?
আমাদের কোনো সন্তান হত?
আমরা কোথায় থাকতাম?
আমি কী করতাম?
এই কল্পনাগুলো আমাকে অপরাধী করে।
কারণ আমি জানি, এসব ভাবা ঠিক নয়।
কিন্তু মন কি নিয়ন্ত্রণে থাকে?
জিনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল খাঁটি। নির্ভেজাল।
কোনো হিসাব-নিকাশ ছিল না। কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
শুধু ছিল আবেগ।
এখনকার জীবনে হিসাব আছে। পরিকল্পনা আছে।
কিন্তু সেই নির্ভেজাল আবেগ নেই।
আমি কি জিনিয়াকে ভালোবাসি এখনো?
নাকি আমি সেই সময়টাকে ভালোবাসি?
যখন আমি তরুণ ছিলাম। যখন জীবন সহজ ছিল।
আমার বর্তমান স্ত্রীর সাথে তুলনা করি না। করা উচিত নয়।
কিন্তু মন অনৈচ্ছিকভাবে তুলনা করে।
জিনিয়ার সাথে কথা বলতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এখন ১৫ মিনিট কথা বলতেই ক্লান্ত হয়ে যাই।
জিনিয়াকে দেখলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত।
এখন কারো দেখায় হৃদস্পন্দন বাড়ে না।
এটা কি বয়সের কারণ?
নাকি সেই অনুভূতি একবারই আসে জীবনে?
আমি জিনিয়াকে খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পাইনি।
হয়তো ভালোই হয়েছে।
দেখলে আরো বেশি অপরাধবোধে ভুগতাম।
জিনিয়া আমার ভিতর একটা গোপন কামরা।
সেই কামরায় আমার অতীত সংরক্ষিত আছে।
আমি সেখানে মাঝে মাঝে যাই। একা একা।
এটা কি স্বাভাবিক?
নাকি আমি একটা অস্বাভাবিক মানুষ?
প্রথম প্রেম কি সবার ভিতরই এভাবে থেকে যায়?
নাকি শুধু আমার?
আমি জানি না।
আমি শুধু জানি, জিনিয়া আমার অংশ।
আমি তাকে ভুলতে পারব না। ভুলতে চাইও না।
এটাই হয়তো আমার সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা।
এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ।
একটু ভাবনা রেখে যান