ডাক্তার বলেন: “হার্টবিট শুরু হয়েছে। ছয় সপ্তাহ।”
আমি ভাবি: হার্টবিট মানে কি জীবন? নাকি শুধু একটা পাম্প চালু হওয়া?
হ্যাপি জিজ্ঞেস করে: “এখন কি ও কিছু অনুভব করতে পারে?”
ডাক্তার বলেন: “এখনো নার্ভাস সিস্টেম পূর্ণ হয়নি।”
আমি ভাবি: তাহলে অনুভূতি ছাড়া জীবন কী?
গর্ভের ভেতর থেকে (কল্পনা):
“আমি কে? আমি কোথায়? চারপাশে অন্ধকার। কিন্তু নিরাপদ। মায়ের হৃদস্পন্দনের শব্দ শুনি। তুম-তাক, তুম-তাক। এটাই আমার প্রথম সঙ্গীত।”
আমার প্রশ্ন: আরাশ কখন আরাশ হয়েছিল?
গর্ভধারণের মুহূর্তে? যখন sperm-egg মিলেছিল? হার্টবিট শুরুর দিন? মস্তিষ্ক তৈরি হওয়ার সময়? নড়াচড়া করা শুরুর দিন? জন্মের মুহূর্তে?
বিজ্ঞান বলে: প্রতিটি পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন organ develop হয়।
দর্শন বলে: চেতনা কখন আসে – সেটা আমরা জানি না।
ধর্ম বলে: আত্মা গর্ভধারণের সাথেই প্রবেশ করে।
আমি বলি: আমি জানি না।
গর্ভাবস্থায় হ্যাপির সাথে কথোপকথন:
“এই যে পেটে নড়াচড়া করছে – এটা কি ইচ্ছাকৃত?”
“জানি না। হয়তো অটোমেটিক।”
“তাহলে আমাদের অনেক কাজও তো অটোমেটিক। সেগুলো কি ইচ্ছাকৃত নয়?”
“কঠিন প্রশ্ন।”
আরাশের জন্মের দিন:
প্রথম কান্না। চোখ খোলা। আমার দিকে তাকানো।
সেই মুহূর্তে মনে হলো – এইতো! এইতো আরাশ!
কিন্তু সে কি আগের দিন আরাশ ছিল না?
গর্ভের ভেতর থেকে (আবার কল্পনা):
“আমার আঙুল তৈরি হচ্ছে। আমি সেগুলো নাড়াতে পারি। এটা কি ইচ্ছা? নাকি রিফ্লেক্স? পার্থক্য কী?”
আমার বর্তমান চিন্তা:
আরাশ এখন এগারো। সে বলে, “বাবা, আমি পেটে থাকার সময়ের কথা মনে আছে।”
“সত্যি?”
“হ্যাঁ। অন্ধকার ছিল। কিন্তু ভয় লাগত না।”
এটা কি সত্যিকারের স্মৃতি নাকি কল্পনা?
বিভিন্ন মতামত:
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: ২০ সপ্তাহের আগে ব্যথা অনুভব করে না।
দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি: চেতনা একটি ধীর প্রক্রিয়া, আকস্মিক ঘটনা নয়।
আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি: আত্মা আছে প্রথম থেকেই।
আমার দৃষ্টিভঙ্গি: হয়তো সবগুলো আংশিক সত্য।
রাতে আরাশকে ঘুমাতে দেখি।
তার শান্ত মুখ। নিশ্বাসের উঠানামা।
মনে পড়ে গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ডে তাকে দেখার কথা। তখনও এই একই মুখ। একই শান্তি।
তাহলে জন্মের আগে-পরে কি কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি?
গর্ভের ভেতর থেকে (শেষবার কল্পনা):
“আমি বের হতে চাই। এই জায়গা ছোট হয়ে আসছে। আলোর দিকে যেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু ভয়ও লাগে। বাইরে কী আছে?”
আমার উপসংহার:
জীবন কখন শুরু – এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
হয়তো জীবন একটি প্রক্রিয়া। একটি ধারাবাহিক বিকাশ।
প্রথম কোশ বিভাজন থেকে শুরু করে জন্ম পর্যন্ত – প্রতিটি মুহূর্তে একটু একটু করে “জীবন” বাড়তে থাকে।
চেতনাও তাই। একদিনে আসে না। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
আরাশ যখন গর্ভে ছিল, সে আংশিক আরাশ ছিল। এখন সে পূর্ণ আরাশ। বড় হলে আরও পূর্ণ হবে।
জীবন একটি হ্যাঁ বা না নয়। জীবন একটি “কতটুকু” প্রশ্ন।
একটু ভাবনা রেখে যান