ব্লগ

মধ্যরাতের প্রশ্নাবলী

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

রাত ২:৩৭

কেন জন্মেছি?

এই প্রশ্নটা মাথায় ঢুকল কবে? মনে নেই। কিন্তু এখন রাতের পর রাত জেগে থাকি এই নিয়ে।

কাজে যাই। ফিরি। খাই। ঘুমাই। আবার কাজে যাই।

এটাই কি জীবন?

রাত ২:৫২

মানুষ কেন বাঁচে?

সন্তানের জন্য? সন্তান বাঁচে কিসের জন্য? তার সন্তানের জন্য?

এই চক্রটা কেন? কোথায় এর অর্থ?

রাত ৩:১৫

আজ দেখলাম একটা পিঁপড়া একটা চিনির দানা টানছে। কেন? খাবে বলে। খাবে কেন? বাঁচার জন্য। বাঁচবে কেন?

পিঁপড়া এসব ভাবে না। আমি কেন ভাবি?

রাত ৩:৩১

দর্শনের বই পড়ি।

সক্রেটিস বলেছেন, “পরীক্ষা না করা জীবন বাঁচার যোগ্য নয়।”

কিন্তু যত পরীক্ষা করি, তত হারিয়ে যাই।

রাত ৩:৪৫

হারিয়ে যাওয়া মানে কী?

মানে উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজেকে হারানো।

মানে প্রশ্ন করতে করতে প্রশ্নের ভিতরেই ডুবে যাওয়া।

রাত ৪:০২

বন্ধুরা বলে, “এত চিন্তা কেন? জীবন উপভোগ করো।”

কীভাবে উপভোগ করব যখন জানি না কেন উপভোগ করছি?

রাত ৪:১৮

আম্মা বলতেন, “আল্লাহর ইবাদত করার জন্য পয়দা হয়েছো।”

কিন্তু আল্লাহকে কেন সৃষ্টি করলেন? তাঁর কি একাকী লাগত?

রাত ৪:৩৩

ভয় লাগে।

এই খোঁজাখুঁজিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলব।

সাধারণ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারব না।

রাত ৪:৪৭

কিন্তু ফিরেও যেতে পারি না।

যে প্রশ্ন একবার মনে জেগেছে, তা আর মরে না।

রাত ৫:০১

হয়তো এটাই জীবনের অর্থ। প্রশ্ন করা। উত্তর খোঁজা। হারিয়ে যাওয়া। আবার খোঁজা।

কিন্তু এটা কি অর্থ? নাকি অর্থহীনতা?

রাত ৫:১৫

ক্লান্ত লাগে।

জীবনের অর্থ খুঁজতে গিয়ে জীবন হারিয়ে ফেলছি।

প্রতিদিন প্রশ্ন। প্রতিদিন সন্দেহ। প্রতিদিন অস্থিরতা।

রাত ৫:২৮

মাঝে মাঝে মনে হয় থামি।

স্বাভাবিক জীবন যাপন করি। কাজ করি। পরিবার নিয়ে থাকি। প্রশ্ন না করি।

কিন্তু পারি না।

রাত ৫:৪২

কেন পারি না?

কারণ একবার সত্যের স্বাদ পেলে মিথ্যায় মন বসে না।

একবার গভীরতা দেখলে ভাসা ভাসা লাগে।

রাত ৫:৫৫

হয়তো এই হারিয়ে যাওয়াটাই খুঁজে পাওয়া।

হয়তো প্রশ্ন করাটাই উত্তর।

হয়তো না জানাটাই জানা।

রাত ৬:০৮

ফজরের আজান শুনি।

মনে হয় আজানও একটা প্রশ্ন। “তুমি কে? কোথা থেকে এসেছো? কোথায় যাবে?”

রাত ৬:২০

উঠে পড়ি। ওজু করি। নামাজে দাঁড়াই।

নামাজে দাঁড়িয়েও প্রশ্ন করি। “আল্লাহ, আপনিও কি কখনো প্রশ্ন করেন?”

সকাল ৬:৪৫

নামাজ শেষে বসে থাকি।

মনে হয় এই বসে থাকাটাই হয়তো জীবনের অর্থ।

প্রশ্ন করা। খোঁজা। হারিয়ে যাওয়া। আবার খোঁজা।

সকাল ৭:০০

চা বানাই।

চা খেতে খেতে ভাবি, আজকেও কি একই প্রশ্ন করব?

হ্যাঁ। করব।

কারণ এই প্রশ্ন করাটাই হয়তো আমার অস্তিত্বের প্রমাণ।

সকাল ৭:১৫

হারিয়ে যাওয়ার ভয়?

আছে।

কিন্তু না খোঁজার ভয় আরো বেশি।

সকাল ৭:৩০

কাজে যাওয়ার সময় হয়েছে।

আজও যাব। আজও প্রশ্ন নিয়ে যাব।

কারণ প্রশ্নহীন জীবন মৃত্যুর সমান।

দুপুর ১২:০০

অফিসে বসে আবার ভাবি।

জীবনের অর্থ খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা?

হ্যাঁ। আছে।

কিন্তু অর্থ না খুঁজে বেঁচে থাকার আশঙ্কা আরো বেশি।

তাই খুঁজব। হারিয়ে গেলেও খুঁজব।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *